আজ রাতে সৌদি আরবের চাঁদ দেখা কমিটি নির্ধারিত বৈঠক শেষে শুক্রবার ঈদ উদযাপনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
চাঁদ দেখা কমিটি জানায়, সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রান্তে উন্নত প্রযুক্তির টেলিস্কোপ ও বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে চাঁদ দেখার প্রচেষ্টা চালানো হলেও বিরূপ আবহাওয়া—বিশেষ করে মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির কারণে কোথাও চাঁদ দেখা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন:
নির্ধারিত বৈঠক শেষে জানানো হয়, আজ চাঁদ দেখা না যাওয়ায় এ বছর পবিত্র রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। চন্দ্র পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নতুন মাস শুরুর ইসলামী বিধান ও ঐতিহ্য মেনেই এ ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
ফলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রমজান মাসের ৩০তম দিন পূর্ণ হবে এবং শুক্রবার পহেলা শাওয়াল ঈদুল ফিতর পালন করবে সৌদি আরব।
সৌদি আরবে যেভাবে চাঁদ দেখা হয়
সৌদি আরবে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা এবং ঈদের তারিখ নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি বেশ সুশৃঙ্খল এবং কয়েকটি স্তরে বিভক্ত। মূল দায়িত্বে যারা থাকেন তারা হলেন:
১. রাজকীয় সুপ্রিম কোর্ট
চাঁদ দেখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সর্বময় ক্ষমতা সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্টের হাতে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চাঁদ দেখার সাক্ষ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রধান বিচারপতি এ ঘোষণা দেন। আজ এই সুপ্রিম কোর্টই ৩০ রোজা পূর্ণ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
২. চাঁদ দেখা কমিটি
দেশজুড়ে প্রধান ১০টি অঞ্চলে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে বিশেষ কমিটি থাকে। এ কমিটিতে সাধারণত নিচের ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত থাকেন:
ধর্মীয় আলেম ও বিচারক: যারা শরীয়াহ মোতাবেক সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
জ্যোতির্বিজ্ঞানী: যারা বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাঁদের অবস্থান নির্ণয় করেন।
সরকারি প্রতিনিধি: প্রশাসনিক সমন্বয়ের জন্য।
৩. দক্ষ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও মানমন্দির
সৌদিতে চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বেশি। প্রধানত দুটি মানমন্দির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ:
সুদাইর: এটি সৌদির সবচেয়ে বিখ্যাত এবং আধুনিক মানমন্দির। এখানকার প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ আল-খুদাইরি বিশ্বজুড়ে বেশ পরিচিত।
তুমাইর: এই মানমন্দির থেকেও প্রতি বছর নিখুঁতভাবে চাঁদ পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এছাড়াও মক্কা, মদিনা, রিয়াদ এবং কাসিম অঞ্চলেও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টেলিস্কোপ বসানো থাকে।
৪. সাধারণ নাগরিক
সুপ্রিম কোর্ট প্রতি বছর রমজানের ২৯ তারিখে সাধারণ নাগরিকদেরও চাঁদ দেখার আহ্বান জানায়। কোনো সাধারণ নাগরিক যদি খালি চোখে চাঁদ দেখতে পান, তবে তাকে নিকটস্থ আদালতে গিয়ে বিচারকের সামনে শপথ করে সাক্ষ্য দিতে হয়। সেই সাক্ষ্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্যের সাথে মিললে তবেই তা গ্রহণ করা হয়।
সৌদি আরবে চাঁদ দেখার ধাপগুলো
সূর্যাস্তের আগে: জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গাণিতিকভাবে নির্ণয় করেন চাঁদ দিগন্তের কত ডিগ্রি ওপরে থাকবে এবং কতক্ষণ স্থায়ী হবে।
মাগরিবের পর: বিভিন্ন মানমন্দির থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং সাধারণ মানুষের সাক্ষ্যগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়।
যাচাই-বাছাই: সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা প্রাপ্ত সাক্ষ্যগুলো জ্যোতির্বিজ্ঞানের তথ্যের সাথে মিলিয়ে দেখেন। যদি বৈজ্ঞানিকভাবে চাঁদ ওঠার কোনো সম্ভাবনা না থাকে, তবে সাধারণ কারো সাক্ষ্য অনেক সময় গ্রহণ করা হয় না (ভুল দেখার সম্ভাবনা বিবেচনায়)।
চূড়ান্ত ঘোষণা: সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে রাজকীয় ফরমান জারি করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে ঈদের ঘোষণা দেয়া হয়।





