২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ‘সোরা ২’ এর সঙ্গে যখন একক অ্যাপ হিসেবে ‘সোরা’ বাজারে আসে, তখন তা ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। তবে ভিডিও তৈরির সীমাবদ্ধতা এবং নির্দিষ্ট ধরনের কন্টেন্ট তৈরির বাধ্যবাধকতার কারণে ধীরে ধীরে এর জনপ্রিয়তা কমতে থাকে।
বর্তমানে অ্যাপ স্টোরের শীর্ষ ১০০-এর তালিকা থেকেও ছিটকে গেছে অ্যাপটি। এ প্রেক্ষাপটে চ্যাটজিপিটির বিশাল ব্যবহারকারী গোষ্ঠীর কাছে সোরা’কে পৌঁছে দিয়ে মডেলটিকে নতুন জীবন দিতে চাইছে ওপেনএআই।
গত ফেব্রুয়ারিতে ওপেনএআই জানিয়েছিল, প্রতি সপ্তাহে চ্যাটজিপিটির সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৯০ কোটি। সোরা-কে মূল চ্যাটবটে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এ সংখ্যাকে ১০০ কোটি বা তার বেশিতে নিয়ে যাওয়াই এখন প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য। তবে সোরা-র নিজস্ব অ্যাপটিও আপাতত বহাল থাকবে বলে জানা গেছে।
ভিডিও জেনারেশন প্রযুক্তি চালানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বর্তমানে এপিআই গ্রাহকদের কাছ থেকে ৭২০-পিক্সেল ভিডিওর জন্য প্রতি সেকেন্ডে ০.১০ ডলার চার্জ করে ওপেনএআই। ২০২৫ সালে সোরা অ্যাপে প্রতিদিন ৩০টি ভিডিও বিনামূল্যে তৈরির সুযোগ দেওয়া হলেও, চ্যাটজিপিটির বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য এই সেবা উন্মুক্ত করা হলে খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনার খরচ বা ‘ইনফারেন্স কস্ট’ বাবদ ওপেনএআই প্রায় ২২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এছাড়াও এটি ওপেনএআইয়ের জন্য নতুন আয়ের মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।
বিনামূল্যের কোটা শেষ হওয়ার পর ব্যবহারকারীদের বাড়তি ভিডিও তৈরির জন্য 'ক্রেডিট' কেনার পদ্ধতি চালু করতে পারে ওপেনএআই। এছাড়া ডিজনির মতো জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির চরিত্র ব্যবহার করে ভিডিও তৈরির সুযোগ দিয়ে গ্রাহকদের প্রিমিয়াম সেবায় আকৃষ্ট করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।





