স্থানীয় সময় গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ) বিকেলে ওয়েস্ট ব্লুমফিল্ডের ‘টেম্পল ইসরাইল’ সিনাগগে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওকল্যান্ড কাউন্টি শেরিফ মাইকেল বুচার্ড জানান, রাইফেলধারী এক ব্যক্তি একটি ট্রাক নিয়ে সিনাগগের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে সে গাড়িটি দিয়ে ভবনের প্রধান প্রবেশদ্বারে সজোরে ধাক্কা মারে, যার ফলে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
ঘটনার সময় সিনাগগের ভেতরে অন্তত ১৪০ জন শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক ও কর্মীরা অবস্থান করছিলেন। তবে নিরাপত্তারক্ষীদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে তাদের কারোরই কোনো ক্ষতি হয়নি। শেরিফ বুচার্ড এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘নিরাপত্তা কর্মীরা অসাধারণ কাজ করেছেন। তারা বড় ধরনের বিপদ রুখে দিয়েছেন।’
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাকারী তার ট্রাকটি নিয়ে ভবনের ভেতরে এবং হলের মধ্য দিয়ে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে তার ব্যাপক গোলাগুলি হয় এবং ঘটনাস্থলেই সে নিহত হয়। হামলায় একজন নিরাপত্তারক্ষী ট্রাকের ধাক্কায় আহত হলেও তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে অন্তত ৩০ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সিনাগগের রাব্বি জেনিফার কালুজনি জানান, হামলার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশে তিনি বলেন, ‘গত জানুয়ারিতেই এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল। আজ সেই প্রশিক্ষণই সবার জীবন বাঁচিয়েছে।’
এই ন্যক্কারজনক হামলার নিন্দা জানিয়েছেন মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘মিশিগানের ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি আমাদের ভালোবাসা রইল। এটি একটি ভয়াবহ ঘটনা।’ ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
এফবিআই এবং স্থানীয় পুলিশ হামলাকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই ঘটনায় কেবল একজনই জড়িত ছিল। বর্তমানে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।





