ইরানে এখনো অব্যাহত ইসরাইলের হামলা; মধ্যপ্রাচ্যে বন্ধ হচ্ছে মার্কিন ও ব্রিটিশ ব্যাংক

তেহরানে বিস্ফোরণের পর ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে
তেহরানে বিস্ফোরণের পর ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে | ছবি: রয়টার্স
1

যুদ্ধের ১৩তম দিনেও ইরান-ইসরাইলের তীব্র হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত আছে। ইসরাইলের দুটি বিমান ঘাঁটি ও একটি গোয়েন্দা কার্যালয়ে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এদিকে তেল স্থাপনাকে হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের তেল স্থাপনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে চলছে ইরানের হামলা। আইআরজিসির হামলার হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে মার্কিন ও ব্রিটিশ মালিকানাধীন বিভিন্ন ব্যাংক। কর্মীদের হোম অফিস করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এদিকে যুদ্ধ বন্ধে ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তাসহ তিনটি শর্ত দিয়েছে ইরান।

ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর যৌথ আক্রমণ শুরুর পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। তেহরানের রাবাত করিমের একটি শিল্প এলাকায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল। বিপরীতে কঠোর জবাব দিচ্ছে ইরান। যার প্রধান লক্ষ্য আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো।

ইরানের হামলার পর বাহরাইনের জ্বালানি সংরক্ষণাগারে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া বাহরাইন মার্কিন নৌবাহিনীর আবাসস্থলেও একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

ইরাকের আল-ফাও বন্দরে দুটি বিদেশি তেল ট্যাংকারে হামলায় একজন নিহত হয়েছে। এর জেরে দেশটির সব জ্বালানি বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হামলা হয়েছে ওমান ও বাহরাইনের তেল সম্পদেও। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কুয়েতের ৬টি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বিকল হয়ে গেছে।

এদিকে বুধবার আইআরজিসির ‌আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হামলার হুমকির পর আরব আমিরাত ও কাতারের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় সব শাখা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংক। দুবাইয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের কর্মকর্তাদের হোম অফিস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এইচএসবিসি কাতারে সব শাখা বন্ধ ঘোষণা করেছে।

ইরান ও হিজবুল্লাহ'র অব্যাহত হামলা চলছে তেল আবিবেও। পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেল আবিবও।

এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধে তিনটি শর্তের কথা তুলে ধরেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এসব শর্ত তুলে ধরেন। বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানের ন্যায্য অধিকারের স্বীকৃতি, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা না করার আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দিতে হবে।

ইএ