আজ (বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই-আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের শহিদদের ওপর আনা শোকপ্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকা-১১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে ৫ আগস্টের (৩৬ জুলাই) স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘ছাত্র-জনতার মিছিল নিয়ে আমি ও আমার সহযোদ্ধারা এই জাতীয় সংসদের প্রাঙ্গণেই এসেছিলাম এবং ফ্যাসিস্টমুক্ত করেছিলাম। আজ এই মহান সংসদে কথা বলতে পারছি, সে জন্য আল্লাহ তায়ালা ও জুলাইয়ের শহিদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
আরও পড়ুন:
গণ–অভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ চার বছরের শিশু আহাদ, ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপের মতো প্রায় দেড় শ শিশু শহিদ হয়েছে। পুলিশের এপিসি থেকে ফেলে দেয়া শহিদ ইয়ামিন কিংবা সাভারে পুলিশের গাড়িতে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা কিশোর সজলের মতো অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগে এই নতুন বাংলাদেশ।
এ সময় তিনি দশম শ্রেণির ছাত্র শহিদ আনাসের লেখা একটি চিঠির উদ্ধৃতি দেন। আনাস তার মাকে লিখেছিল, ‘একটি প্রতিবন্ধী কিশোর, সাত বছরের বাচ্চা, ন্যাংড়া মানুষ যদি সংগ্রামে নামতে পারে, তাহলে আমি কেন বসে থাকব ঘরে? একদিন তো মরতেই হবে, তাই মৃত্যুর ভয় করে স্বার্থপরের মতো ঘরে বসে না থেকে সংগ্রামে নেমে বীরের মতো মৃত্যু অধিক শ্রেষ্ঠ।’
এই অভ্যুত্থানে ভ্যানগার্ড হিসেবে ভূমিকা রাখার জন্য ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ছাত্র অধিকার পরিষদ এবং বিভিন্ন বামপন্থী ও ইসলামপন্থী ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান নাহিদ। একই সঙ্গে তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের শহিদ, আবরার ফাহাদ, ফেলানী থেকে শুরু করে বিগত সরকারের আমলের গুম-খুন ও লুটের বিচার দাবি করেন।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থান কেবল একটি ঘটনা নয়, বরং নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই মানেই এক অন্তর্ভুক্তি ও বৈষম্যহীন দেশ, জুলাই মানেই আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিজমমুক্ত দেশ। আমরা শহিদদের রক্তের সঙ্গে কোনো বেইমানি করব না।’





