বন্দরে ভিড়ছে তেলের জাহাজ, মার্চ মাসজুড়ে মিলবে পর্যাপ্ত পেট্রোল-অকটেন

চট্টগ্রাম বন্দরে অপেক্ষমাণ জাহাজ
চট্টগ্রাম বন্দরে অপেক্ষমাণ জাহাজ | ছবি: সংগৃহীত
1

জ্বালানিবাহী নতুন জাহাজ আসায় মজুত বেড়েছে তেল-গ্যাসের। অকটেন, পেট্রোলের যোগান আছে পুরো মার্চ মাসের। ১৪ মার্চের মধ্যে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে আরও কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজের। আমদানি প্রক্রিয়া সচল রাখতে এলসি খোলা নিয়মিত আছে বলে জানায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। এদিকে, জ্বালানি নিয়ে ঘাটতি নেই জানিয়ে সাশ্রয়ী হবার পরামর্শ দিলেন জ্বালানিমন্ত্রী।

নানামুখী চাপে থাকা বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহতের শঙ্কায় সারাদেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে বেড়েছে চাপ।

এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পক্ষ থেকে তেল সরবরাহের সর্বোচ্চ সীমা বেধে দেয়ার পাশাপাশি জ্বালানি মজুত পর্যাপ্ত বলেও আশ্বস্ত করা হয়।

দেশে বর্তমানে পেট্রোল মজুত আছে ১৫ হাজার টনের বেশি। যার দৈনিক চাহিদা প্রায় ১ হাজার টন। এমন বাস্তবতায় আগামী ১৫ দিনের আগে মজুত শেষ হওয়ার শঙ্কা নেই। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এর চাহিদা বেড়েছে দ্বিগুণ।

এদিকে, ডিজেলের দৈনিক চাহিদা প্রায় ১২ হাজার টনের কাছাকাছি। তবে গেল কয়েকদিনে ডিজেলের দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন জাহাজ আসায় মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার টনে। এছাড়া আমদানি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে ২ লাখ ৮০ টন ডিজেল। এদিকে, চাহিদা অনুযায়ী অকটেনের যোগান আছে পুরো মার্চ মাসের।

বিপিসি বলছে, জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি নেই। জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ারও পরামর্শ তাদের।

বিপিসির পরিচালক নাজনীন পারভীন বলেন, আমাদের তেলের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। আর আমাদের প্রতিমাসে একটা টার্গেট থাকে যে কতগুলো এলসি খুলবো, সেগুলো এ মাসেও চলমান আছে। এলসিগুলো আমরা খুলে ফেলেছি। আমাদের যে নিয়মিত তেল আসার প্রক্রিয়া সেটা আমরা অব্যাহত রাখবো। তারাও আমাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

এদিকে, রোববার এলএনজি ও এলপিজিবাহী ছয়টি জাহাজ ভিড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে বর্হিনোঙরে। এছাড়া তেলবাহী আরও ২টি জাহাজ আসে বন্দরে। এর মধ্যে ২টি জাহাজ খালাসের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানান জ্বালানি মন্ত্রী। এছাড়া ১১ ও ১৪ মার্চ আরও কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

নতুন করে জাহাজ আসায় দেশে আপাতত জ্বালানির সংকটের শঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করেন জ্বালানিমন্ত্রী। এছাড়া বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমার মজুদ আছে কিন্তু রেশনিং করে চলতে হবে। যেসব জাহাজ আটকে গেছে, মধ্য সমুদ্রে আছে সেগুলো আসতে আসতে যেন আমার এই মজুদে কোনো হাত না পড়ে। একটা ভঙ্গুর অবস্থায় দেশকে পেয়েছি। ৭৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া। সেই সিস্টেমকে আমরা ইনশাআল্লাহ এখনো ভালো রেখেছি। আশা করি ভবিষ্যতে ও এ সিস্টেম ভালো থাকবে।

সংকট মোকাবিলায় রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি সরবরাহ চালু রাখার পাশাপাশি জনগণকে সাশ্রয়ী হওয়ার অনুরোধ জানান জ্বালানিমন্ত্রী।

ইএ