চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ যুদ্ধ চলানোর ইঙ্গিত ট্রাম্পের—কতটা প্রস্তুত ইরান?

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান | ছবি: এখন টিভি
0

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব বহুদিনের। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হন সর্বোচ্চ নেতা খামেনি। জবাবে সমানতালে হামলা চালাচ্ছে তেহরানও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ চলতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো ইরান কি পারবে মোকাবিলা করতে? আর এ যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের খরচ কত হতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা। এর পরপরই কঠোর প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা দেয় তেহরান। কিন্তু প্রশ্ন, কোন উপায়ে ইরান তাদের প্রতিশোধ নিচ্ছে?

ইরানের শক্তি প্রদর্শনের প্রধান হাতিয়ার হলো তাদের মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কাছেই সবচেয়ে বড় এবং বৈচিত্র্যময় ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার রয়েছে। যেখানে ব্যালিস্টিক এবং ক্রুজ দুই ধরনের মিসাইলই আছে। ইরানের সবচেয়ে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে। যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দিয়ে ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সহজেই আঘাত হানছে তেহরান।

এছাড়া স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যেমন; ফাত্তাহ, জুলফিকার, কিয়াম-১ এবং পুরোনো শাহাব-১ ও ২ মডেলের মিসাইল তো আছেই। স্বল্পপাল্লার মিসাইল যেমন শাহাব-৩, ইমাদ, গদর-১, খোররামশাহর এবং সেজ্জিল অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

আরও পড়ুন:

তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বড় অংশ মাটির গভীর সুড়ঙ্গ, গোপন ঘাঁটি এবং সুরক্ষিত লঞ্চ সাইটে লুকিয়ে রেখেছে। এ শক্তিশালী নেটওয়ার্কের কারণে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ক্ষমতা দ্রুত নষ্ট করে দেয়া অসম্ভব।

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অপারেশন এপিক ফিউরিতে ব্যবহৃত মার্কিন অস্ত্রগুলো হলো-যুদ্ধবিমান: বি-১, বি-২ স্টিলথ, সর্বাধুনিক এফ-৩৫, এফ-১৫, এফ-১৬, ফ্যালকন ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে লুকাস ড্রোন, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন যা নজরদারির কাজে বেশি ব্যবহৃত হয়, ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য এম ১৪২ হাই মবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম, সাগর থেকে নিক্ষেপযোগ্য টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র।

আরও আছে, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সুরক্ষাব্যবস্থা, থাড ক্ষেপণাস্ত্র সুরক্ষব্যবস্থা। বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কত খরচ হতে পারে, সেটা বলার সময় এখনো হয়নি। তুরস্কের আনাদোলু সংবাদ সংস্থার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, অপারেশন এপিক ফিউরির প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে প্রায় ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

এছাড়া অভিযানের আগে যুদ্ধবিমানের অবস্থান পরিবর্তন, ডজনের বেশি নৌযান মোতায়েন ও আঞ্চলিক সম্পদ একত্র করার মতো সামরিক প্রস্তুতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র আরও প্রায় ৬৩ কোটি ডলার খরচ করেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

জেআর