আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি: যেভাবে হয়ে উঠলেন ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি | ছবি: সংগৃহীত
1

বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় ইরানের শাসন পদ্ধতি (Governance system of Iran) বেশ আলাদা। সেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বা সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হলেও দেশের মূল ক্ষমতা বা চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার (Supreme Leader) হাতে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের এই সর্বোচ্চ পদে আসীন রয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (Ayatollah Ali Khamenei)।

পদের নাম (Position) ক্ষমতার পরিধি (Scope of Power) বর্তমান ব্যক্তি (Current Leader)
সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা সামরিক বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
প্রেসিডেন্ট প্রশাসনিক কাজ ও সাধারণ নির্বাহী ক্ষমতা মাসুদ পেজেশকিয়ান
আইআরজিসি (IRGC) বিপ্লব রক্ষা ও বিশেষ নিরাপত্তা খামেনির প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে

কেন খামেনি পশ্চিমাদের মূল লক্ষ্যবস্তু?

সম্প্রতি ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের (Iran-Israel conflict) সময় আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে যে, তাকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ইরানের কথিত সর্বোচ্চ নেতা কোথায় লুকিয়ে আছেন সেটি তার জানা, কিন্তু এখনই তাকে মারা হবে না। বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian) নন, বরং আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কেন আমেরিকা বা ইসরায়েলের মূল লক্ষ্যবস্তু (Target), সেই প্রশ্নটি এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে।

আরও পড়ুন:

ইসলামি বিপ্লব ও সর্বোচ্চ নেতার উত্থান

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসনের এই ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের (Islamic Revolution) পর থেকে। একটি গণবিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয় এবং সেখানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র (Religious Republic) প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর দেশটি এ পর্যন্ত দুজন সুপ্রিম লিডার পেয়েছে। শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে তাদের পদবী হিসেবে ব্যবহৃত 'আয়াতুল্লাহ' শব্দের অর্থ হলো 'সিনিয়র ধর্মীয় নেতা'।

খামেনির অসীম ক্ষমতা ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এখন দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ (Commander-in-Chief)। এছাড়া দেশের সব বড় বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার সম্মতি বাধ্যতামূলক। এমনকি ইরান পারমাণবিক ক্ষমতার (Nuclear power) অধিকারী হবে কি না অথবা জাতিসংঘের আণবিক শক্তি সংস্থাকে (IAEA) সহযোগিতা করবে কি না, এসব স্পর্শকাতর বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই দেন।

গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতাসহ বেশ কয়েকজন পরমাণু বিজ্ঞানী (Nuclear scientists) নিহত হয়েছেন, যা অঞ্চলটিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন:

বাকস্বাধীনতা ও কঠোর সেন্সরশিপ (Censorship and Freedom of Speech)

ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি কতটা কঠোর, তা বোঝা যায় তাদের আইন প্রয়োগের ধরনে। এমনকি সামাজিক মাধ্যমে (Social Media) কেউ যদি মি. খামেনির ন্যূনতম সমালোচনাও করেন, তবে সেজন্য তাঁকে কারাবরণ বা জেলের ঘানি (Imprisonment) টানতে হতে পারে। সর্বোচ্চ নেতার সমালোচনা ইরানে রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল হিসেবে গণ্য করা হয়।

যেভাবে নির্বাচিত হন পরবর্তী নেতা (Selection Process)

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, জনগণের ভোটে নয় বরং বিশেষজ্ঞ পরিষদ (Assembly of Experts) নামক একটি শক্তিশালী কমিটির মাধ্যমে পরবর্তী সুপ্রিম লিডার নির্বাচিত হন। এই পরিষদে ৮৮ জন আলেম থাকেন, যাঁরা গোপনে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী যোগ্য ব্যক্তিকে বেছে নেন। তবে বাস্তবে এই সিলেকশনে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এবং খামেনির নিকটজনদের বিশাল প্রভাব থাকে।

ইরানের নেতৃত্ব নির্বাচন ও শাসন কাঠামো (একনজরে)

বিষয় (Subject) নির্বাচন পদ্ধতি ও আইন (Rules)
নির্বাচনকারী সংস্থা বিশেষজ্ঞ পরিষদ (Assembly of Experts)
জনগণের ভূমিকা কোনো সরাসরি এখতিয়ার নেই
সমালোচনার পরিণাম গ্রেপ্তার এবং কারাদণ্ড (Imprisonment)
চূড়ান্ত ক্ষমতা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে (Supreme Power)

এসআর