জম্মু-কাশ্মীর মানেই কেবল বরফ ঢাকা পাহাড় আর অপরূপ সৌন্দর্য ঘেরা কুরুক্ষেত্র নয়। এখানে আছে আরেক অদম্য লড়াইয়ের উপাখ্যানও। বছরের পর বছর কারফিউ, অবহেলা আর রাজনৈতিক অস্থিরতার ছায়ায় ঢাকা এই অঞ্চলের ক্রিকেটাররা শুধু প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়েননি, লড়াই করেছেন প্রতিকূল জীবনের সাথেও। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের উত্তেজনার মাঝে দাঁড়িয়ে তারা প্রতিটি বলের সঙ্গে নতুন করে স্বপ্ন বুনেছেন। দুশ্চিন্তাকে করেছেন ব্যাট হাতে সীমানা ছাড়া।
আরও পড়ুন:
প্রদেশটির সংগ্রাম, বঞ্চনা আর ডেডিকেশনের যেন চূড়ান্ত বিজয় হল ২০২৫-২৬ মৌসুমের রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে। লোকেশ রাহুল, মায়াঙ্ক আগরওয়াল, প্রসিদ কৃষ্ণ, দেবদূত পাডিক্কাল ও করুণ নায়ারের মতো তারকাখচিত শক্তিশালী কর্ণাটককে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হলো জম্মু-কাশ্মীর। এক অবিশ্বাস্য ইতিহাস কিংবা রূপকথার কাব্য বললেও হয়তো ভুল বলা হবে না। যে দল একসময় ঘরোয়া ক্রিকেটে কেবল টিকে থাকার লড়াই করত, তারা আজ শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জয় করেছে।
এই মহাকাব্যিক সাফল্যের নায়ক ২৯ বছর বয়সী আকিব নবি। ১০ ম্যাচে ১৭ ইনিংসে ৬০ উইকেট শিকার করে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। ফাইনালে পাঁচ উইকেট শিকার করে একাই কর্ণাটকের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি আসরজুড়ে ৭টি ফাইফার শিকারের মাইলফলক নিয়ে রীতিমতো জম্মু-কাশ্মীরের বরপুত্র বনে গেছেন তিনি।
নবি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘যখন ক্যারিয়ার শুরু করি, স্বপ্ন দেখতাম এই টুর্নামেন্ট জেতার। অনেক সংগ্রাম আর ত্যাগের পর আজ আমরা চ্যাম্পিয়ন। এই ট্রফি কেবল একটি জয় নয়, এটি এক অবহেলিত ভূখণ্ডের অসীম সাহসের দলিল। এটি প্রমাণ করে, সকল সীমাবদ্ধতা আর রাজনৈতিক অস্থিরতা ছাপিয়ে জেদ থাকলে স্বপ্নের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।’





