Recent event

দিনাজপুরে ৫০০ কোটি টাকার বেশি পাথর জমা, উৎপাদন বন্ধের আশঙ্কা কর্তৃপক্ষের

দিনাজপুরের মধ্যপাড়ায় পড়ে আছে পাথর
দিনাজপুরের মধ্যপাড়ায় পড়ে আছে পাথর | ছবি: এখন টিভি
0

দেশের একমাত্র পাথর খনি মধ্যপাড়ায় উত্তোলিত পাথর বিক্রিতে নেই তেমন গতি। বিক্রি কমায় জমে আছে প্রায় ১৫ লাখ টন পাথর, যার বাজারমূল্য ৫০০ কোটি টাকার বেশি। জায়গা সংকটের কারণে ইতোমধ্যে দুইবার উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আবারও উৎপাদন বন্ধের আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

দেশের অবকাঠামো নির্মাণখাতে বছরে প্রায় ২ কোটি মেট্রিক টন পাথরের চাহিদা রয়েছে। তবে মধ্যপাড়া খনির পাথর বিক্রিতে হঠাৎ করেই ভাটা পড়েছে। প্রতিদিন গড়ে সাড়ে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন পাথর উৎপাদিত হলেও বিক্রি হচ্ছে মাত্র আড়াই থেকে তিন হাজার মেট্রিক টন।

এখানকার পাথরের মান ভালো হলেও সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন কাজ কমায় পাথর বিক্রি কমেছে। এছাড়া আমদানিকৃত পাথরের সঙ্গে দামের পার্থক্যও অনেক বেশি। সরকার দাম কমানোর ব্যবস্থা নিলে, বিক্রি বাড়বে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, তারাও রাষ্ট্রীয় কাজে অংশীদারিত্ব চান। তবে সরকার পরিবর্তন হওয়ায় বর্তমানে পাথর বিক্রি হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:

পাথর বিক্রি কমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় শ্রমিকরাও। একসময় দিনে ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক লোড হলেও এখন সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৫০ ট্রাক লোড হচ্ছে।

শ্রমিক ও চালকরা জানান, আগে পাথর নেয়ার জন্য অনেক সময় লাগতো। বর্তমানে অল্পতেই পাথর পাওয়া যায়।

মধ্যপাড়া পাথর খনিতে ডিলার রয়েছেন ১৩০ জন। তবে তারা আর আগের মতো পাথর নিচ্ছেন না। অবিক্রিত ১৫ লাখ মেট্রিক টন পাথরের অর্ধেকের বেশি রেলওয়ের নেওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্প না থাকায় তারা নিচ্ছে না।

মধ্যপাড়া গ্র্যানাইট কোম্পানি লিমিটেড মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ রফিজুল ইসলাম বলেন, ‘পাথররের মূল্য বৃদ্ধির কারণ হচ্ছে, ২০২০ সালের পর থেকে পাথরের র‌্যায়ালেটি বেড়েছে। আর ট্যাক্সের ক্ষেত্রে সবাই শূন্য ট্যাক্স দিয়ে পণ্য আমদানি করে আর আমাদের ১০৪ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হয়।’

পাথরের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে আনা গেলে এবং সরকারি প্রকল্পে ব্যবহার বাড়ালে এ সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। নইলে দেশের একমাত্র পাথর খনি আরও অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে।

জেআর