নদীর তীর সংরক্ষণ, বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ নির্মাণ, খাল পুনঃখনন ও পানি ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য ২ হাজার ৭৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করে নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ড। ১৯৬২ সাল থেকে পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে এ জমি অধিগ্রহণ করা হয়।
তবে, বর্তমানে অধিগ্রহণের অন্তত ১ হাজার ৩৫০ একর জমি অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে। শুধু দখলই নয়, মোট জমির প্রায় অর্ধেক বিভিন্ন ব্যক্তির নামেও রেকর্ড হয়ে গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয়রা জানান, এখানের অধিকাংশ জমি নামে বেনামে দখল হয়ে গেছে।
কোথাও গড়ে উঠেছে কাঁচাবাজার, কোথাও স্থায়ী দোকানপাট, আবার কোথাও বহুতল ভবনসহ আবাসিক স্থাপনা। দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারে নেই প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ।
আরও পড়ুন:
স্থানীয়রা আরও জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এসব জমি দখল হয়ে গেছে। আর এসব জমিগুলো দখলমুক্ত করে সরকারি কাজে ব্যবহার করা উচিত বলে মনে করেন তারা।
সাধারণত ভয়ে এসব বিষয়ে মুখ খুলতে চান না সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রভাবশালীরাই সরকারি জমি দখলের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। অবিলম্বে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত অভিযান পরিচালনার দাবি এলাকাবাসীর। পাশাপাশি সীমানা পিলার ও সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন এবং ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড যাচাই করে নিয়মিত মনিটরিংও জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয় আইনজীবীরা জানান, নড়াইল জেলায় প্রায় পঞ্চাশটির মতো সরকারি জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচিত এসব জায়গাগুলো দখলমুক্ত করা।
আর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জমির রেকর্ড ও যাচাই বাছাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে।
নড়াইলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমরা সাহা বলেন, ‘যেসব জায়গা দখল হয়ে গেছে আমরা সুনির্দিষ্ট তালিকা করে, জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিলেই আমরা দ্রুত অভিযানে যাবো।’





