আজ (মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি) এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
রাজস্ব আদায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঘাটতি বেড়ে যাচ্ছে ক্রমবর্ধমান হারে। যদিও ওই সময়ে প্রায় ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। অথচ এ সময় রাজস্ব আয়ের তিনটি খাতে রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার ১১৩ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে আদায় হয় ২ লাখ ২৩ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি, গত অর্থবছরে একই সময়ে আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯১ কোটি টাকা।
পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে পাওয়া তথ্যানুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে সবচেয়ে বড় ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। এ খাতে ঘাটতি ২৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। আমদানি পর্যায়ে ঘাটতি হয়েছে ১৫ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। ভ্যাট খাতে ঘাটতি হয়েছে ১৫ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন:
একই সময়ে আয়কর খাতের লক্ষ্য ছিল ১ লাখ তিন হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। অথচ আদায় হয়েছে মাত্র ৭৫ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। আমদানি-রপ্তানি শুল্কে ৭৮ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় মাত্র ৬২ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা।
তবে ভ্যাটের আদায়ই সবচেয়ে বেশি। ওই সময়ে ৮৫ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা আদায় করেছে এনবিআর। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা।
একক মাস হিসেবে জানুয়ারি মাসে রাজস্ব আদায়েও মন্দা ভাব দেখা গেছে। এ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২ হাজার ৫৪৫ দশমিক ৫৭ কোটি টাকা, বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। ঘাটতি প্রায় সোয়া ১৫ হাজার কোটি টাকা। এ মাসে ১৮ হাজার ৫৭৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা আয়করের বিপরীতে আদায় ১৩ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা, ভ্যাটে ২০ হাজার ৪৭৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় ১৫ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা আর শুল্কে ১৩ হাজার ৪৯৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় ৮ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের শুরুতে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। পরে গত ১০ নভেম্বর বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটি তা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয় বলে জানা গেছে।





