Recent event

‘চৌরঙ্গী’ উপন্যাসের স্রষ্টা শংকরের প্রয়াণ

মণিশংকর মুখোপাধ্যায়
মণিশংকর মুখোপাধ্যায় | ছবি: সংগৃহীত
0

চৌরঙ্গী, সীমাবদ্ধ এবং জন অরণ্যের মত উপন্যাস উপহার দিয়ে দুই বাংলার সহিত্যকে যিনি সমৃদ্ধ করেছেন, সেই মণিশংকর মুখোপাধ্যায় চিরবিদায় নিলেন। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পাঠকের কাছে কেবল ‘শংকর’ নামেই পরিচিত এ সাহিত্যিকের মৃত্যকালে বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

কলকাতার গণমাধ্যম আনন্দবাজারের বরাতে জানা যায়, নানা শারীরিক সমস্যা নিয়ে প্রায় ১৫ দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বর্ষীয়ান এ সাহিত্যিক। এক পর্যায়ে তার খাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এরপর সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১টার দিকে মৃত্যু হয় তার।

জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যের নানা সমস্যায় ভুগছিলেন সাহিত্যিক। গেল গত ডিসেম্বর মাসে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে গিয়েছিল শংকরের। সে সময় অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি।

হাসপাতালে প্রয়াত সাহিত্যিকের চিকিৎসক সুদীপ্ত মিত্র বলেন, ‘সপ্তাহ দুয়েক আগে ফের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ৪ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। এত দিন সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। শুক্রবার দুপুরে সেখানেই জীবনাবসান ঘটে এ সাহিত্যিকের।’

আরও পড়ুন:

শংকরের প্রয়াণে শোক জানিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘বাংলার প্রখ্যাত সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়ের (শংকর) প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তার প্রয়াণে বাংলা সাহিত্য জগতের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হলো। ‘চৌরঙ্গী’ থেকে ‘কত অজানারে’, ‘সীমাবদ্ধ’ থেকে ‘জন অরণ্য’—তার কালজয়ী সৃষ্টিগুলি প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালি পাঠককে মুগ্ধ করেছে। তার লেখনীর আধারে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের না-বলা কথা।

‘বিশেষ করে স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে তার সুগভীর গবেষণা ও গ্রন্থসমূহ আমাদের কাছে অমূল্য সম্পদ। তার প্রয়াণ আমাদের সাংস্কৃতিক জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমি তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও অগণিত গুণগ্রাহীকে আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই।’—যোগ করেন তিনি।

এসএইচ