Recent event

শ্রমিকের কর্মবিরতি ও লাইটারেজ সংকটে পণ্যখালাস ব্যাহত হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরে

চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দর | ছবি: এখন টিভি
0

গত বছরের চেয়ে এবছর রমজানকে সামনে রেখে রেকর্ড পরিমাণ নিত্য খাদ্যপণ্য আমদানি হলেও বাজারে নেই কোনো সুফল। আমদানিকারকদের দাবি, বন্দরে শ্রমিকদের কর্মবিরতির পাশাপাশি লাইটারেজ জাহাজ ও ঘাট সংকটে পণ্যখালাস মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যে কারণে ছোলা, চিনি, ভোজ্যতেলসহ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। যদিও জাহাজ মালিকদের অভিযোগ কিছু অসাধু আমদানিকারক পণ্যের দাম বাড়াতে দেশের বিভিন্ন নৌ বন্দরের ঘাটে লাইটারেজ জাহাজকে গুদাম বানিয়ে রাখে।

প্রতিবছরই রমজানের আগে আমদানি বাড়ে ভোগ্যপণ্যের। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রেকর্ড পরিমাণ চিনি, ছোলা, ভোজ্য তেল, ডাল খেজুর ও বিভিন্ন মসলা জাতীয় পণ্য আমদানি হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য মতে, শিশু খাদ্যসহ ১৭ ধরনের নিত্যপণ্য আমদানির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ২৮ লাখ টন, যার মূল্য প্রায় ২৯ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৩ লাখ ১৩ হাজার টন বেশি।

নিত্যপণ্যের মধ্যে পাম ও সয়াবিন মিলে ২০ হাজার ১২২ কোটি টাকার ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। অপরিশোধিত সয়াবিন আমদানি কিছুটা কমলেও সাত মাসে গেল বছরের চেয়ে মোট আমদানি বেড়েছে বেড়েছে ১ লাখ ২২ হাজার টন। একইভাবে বেড়েছে চিনি, ছোলা ও খেজুর আমদানি। তবে মসুর ডাল আমদানি কিছুটা কমেছে। কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য আমদানি হওয়ায় রমজানে সরবরাহ ঘাটতির কোনো শঙ্কা নেই।

আরও পড়ুন:

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, ‘আমরা যদি কম্পেয়ার করি চলতি অর্থ বছরের সাড়ে সাত মাসে যে আমদানি হয়েছে। সেটা বিগত অর্থবছরের সাড়ে সাত মাসের চেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে এবং আমাদের রাজস্বের পরিমাণও বেড়েছে কয়েকগুণ। আর যেহেতু পর্যাপ্ত আমদানি হয়েছে ধারণা করা যাচ্ছে বাজার স্বাভাবিক থাকবে।’

যদিও শিপিং এজেন্ট ও আমদানিকারকদের দাবি সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিকদের এক সপ্তাহের কর্মবিরতির পাশাপাশি লাইটারেজ জাহাজ ও ঘাট সংকটে পণ্য খালাস ব্যাহত হয়েছে। বর্তমানে বহিঃনোঙ্গরে অনেক মাদার ভেসেল পণ্য খালাসের অপেক্ষায় থাকলেও লাইটারেজ জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। যার প্রভাব পড়েছে দামে।

আকিজ শিপিং লাইনের এজিএম মিজানুর রহমান বলেন, ‘জাহাজগুলো মালমালা নিয়ে আসছে। যদি সঠিক সময় পৌঁছাতে না পারে। তাহলে রমজানে বাজারে সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।’

আরও পড়ুন:

আর লাইটারেজ জাহাজ মালিকদের অভিযোগ, অসাধু অমদানিকারকরা দেশের বিভিন্ন নৌ বন্দরে লাইটারেজ জাহাজকে গুদাম বানিয়ে রাখায় এই সংকট বেড়েছে। গুদামে সরকারের নজরদারি বেশি থাকায় অনেকেই লাইটারেজ জাহাজকে গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন।

লাইটারেজ জাহাজ মালিক শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বহিঃনোঙ্গরে এখন পণ্য খালাসের জন্য লাইটার জাহাজ পেতে সময় লাগে। আর জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করতেও সময় লাগে ১ মাসের মত তাই এ সমস্যা হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙ্গেরে শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্য পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে শতাধিক মাদার ভেসেল অবস্থান করছে। এর মধ্যে গম, ছোলা, সয়াবিন বীজ, অপরিশোধিত সয়াবিন তেল ও ডালসহ প্রায় ১২ লাখ টন খাদ্যপণ্য নিয়ে ২৬টি জাহাজ পণ্য খালাসের অপেক্ষায় আছে।

জেআর