Recent event

চৌম্বকীয় শক্তিতে ভেসে চলা ট্রেন: ম্যাগলেভ প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত, কী ও কেন জানুন

চীনের ম্যাগলেভ ট্রেন
চীনের ম্যাগলেভ ট্রেন | ছবি: সংগৃহীত
0

কল্পনা করুন এমন একটি ট্রেনের কথা যা রেললাইনের ওপর চলে কিন্তু লাইনকে স্পর্শ করে না! অবিশ্বাস্য মনে হলেও 'ম্যাগনেটিক লেভিটেশন' বা ম্যাগলেভ প্রযুক্তির কল্যাণে এটি এখন বাস্তব। ঘণ্টায় ৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে ছুটতে সক্ষম এই ট্রেন মূলত চৌম্বকীয় শক্তিতে ভর করে লাইনের ওপর ভেসে থাকে। ভবিষ্যতের এই পরিবহন ব্যবস্থা কেন সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করছে এবং কেন একেই বলা হচ্ছে আগামীর প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম—জানুন বিস্তারিত।

কী ম্যাগলেভ ট্রেন (What is Maglev Train)

চাকা ছাড়াই ছুটে চলা ট্রেন—এই বিস্ময়কর প্রযুক্তির নাম ম্যাগলেভ (Maglev) ট্রেন। চৌম্বক শক্তির সাহায্যে লাইনের ওপর ভেসে চলা এই ট্রেন ভবিষ্যৎ পরিবহনের প্রতীক হিসেবে ধরা হচ্ছে। কম সময়, কম শব্দ ও কম কম্পনের কারণে ম্যাগলেভকে আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার (Communication System) সবচেয়ে উন্নত রূপ বলা হচ্ছে।

বৈশিষ্ট্য (Features) ম্যাগলেভ ট্রেন (Maglev Train) প্রচলিত হাই-স্পিড ট্রেন (Conventional HSR)
সাসপেনশন প্রযুক্তি (Suspension) চৌম্বকীয় উত্তোলন (Magnetic Levitation) চাকা ও রেলের ঘর্ষণ (Wheel-on-Rail)
সর্বোচ্চ গতি (Max Speed) ৪৩০ - ৬০০+ কিমি/ঘণ্টা ৩০০ - ৩৫০ কিমি/ঘণ্টা
ঘর্ষণ ও ক্ষয় (Friction & Wear) শূন্য (No physical contact) অত্যধিক (High wear and tear)
শব্দ ও কম্পন (Noise & Vibration) অত্যন্ত কম ও মসৃণ তুলনামূলক বেশি
জ্বালানি দক্ষতা (Energy Efficiency) উচ্চ (বাতাসের বাধা ছাড়া অন্য বাধা নেই) মাঝারি (ঘর্ষণে শক্তি অপচয় হয়)
রক্ষণাবেক্ষণ খরচ (Maintenance Cost) কম (যন্ত্রাংশের ঘর্ষণ নেই বলে) বেশি (নিয়মিত রেল বদলাতে হয়)
নির্মাণ ব্যয় (Construction Cost) অত্যন্ত বেশি (আলাদা ট্র্যাক প্রয়োজন) তুলনামূলক কম

আরও পড়ুন:

কীভাবে কাজ করে ম্যাগলেভ প্রযুক্তি (How Maglev Technology Works)

ম্যাগলেভ শব্দটি এসেছে ‘ম্যাগনেটিক লেভিটেশন’ (Magnetic Levitation) থেকে। এই প্রযুক্তিতে ট্রেনের নিচে শক্তিশালী চুম্বক (Strong Magnets) বসানো থাকে, যা রেললাইনের সঙ্গে চৌম্বকীয় বিকর্ষণ (Magnetic Repulsion) সৃষ্টি করে। ফলে ট্রেনটি লাইনের ওপর ভেসে চলে এবং চাকার সঙ্গে রেলের ঘর্ষণ (Friction) থাকে না। ঘর্ষণ না থাকায় গতি বাড়ানো সম্ভব হয় অনেক বেশি, একই সঙ্গে কমে যায় জ্বালানি ক্ষয় ও যান্ত্রিক ত্রুটি।

চীনের অভিজ্ঞতা (China's Experience)

বিশ্বে প্রথম বাণিজ্যিক ম্যাগলেভ ট্রেন চালু হয় সাংহাই (Shanghai) শহরে। ট্রেনটি সাংহাইয়ের বিমানবন্দর থেকে শহরের কেন্দ্র পর্যন্ত যাত্রী বহন করে এবং এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৪৩০ কিলোমিটার। মাত্র কয়েক মিনিটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এই ট্রেন প্রমাণ করেছে, দ্রুতগতির পরিবহন (High-speed Transport) আর এখন কল্পনা নয়, বাস্তবতা।

জাপানের অগ্রগতি (Japan's Progress)

জাপানও ম্যাগলেভ প্রযুক্তিতে অনেক দূর এগিয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় রেল সংস্থা জে আর সেন্ট্রাল (JR Central) দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষামূলকভাবে অতিদ্রুত গতির ম্যাগলেভ ট্রেন চালাচ্ছে। পরীক্ষায় এই ট্রেন ঘণ্টায় ৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি গতির রেকর্ড করেছে। জাপানের লক্ষ্য টোকিও (Tokyo) ও ওসাকার (Osaka) মধ্যে ম্যাগলেভ রুট চালু করে ভ্রমণের সময় অর্ধেকে নামিয়ে আনা।

আরও পড়ুন:

পরিবেশবান্ধব দিক (Environment Friendly Aspects)

ম্যাগলেভ ট্রেনের বড় সুবিধা হলো এটি পরিবেশবান্ধব (Eco-friendly)। প্রচলিত ডিজেল বা বিদ্যুৎচালিত ট্রেনের তুলনায় এতে কার্বন নিঃসরণ (Carbon Emission) কম। শব্দদূষণও তুলনামূলকভাবে অনেক কম হয়। শহরের ভেতরে দ্রুত যাতায়াতের ক্ষেত্রে এটি একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা (Challenges and Limitations)

তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। ম্যাগলেভ লাইনের নির্মাণ ব্যয় (Construction Cost) অত্যন্ত বেশি। প্রচলিত রেললাইনের (Conventional Railway) সঙ্গে এটি সরাসরি ব্যবহার করা যায় না, ফলে আলাদা অবকাঠামো (Infrastructure) গড়ে তুলতে হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই ব্যয় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা (Future Directions)

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে বড় শহরগুলোর মধ্যে দূরত্ব কমাতে ম্যাগলেভ ট্রেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দ্রুত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই প্রযুক্তিই হতে পারে পরবর্তী যুগের প্রধান ভরসা।

আরও পড়ুন:


এএম