ক্রমিক
ধাপ (Step)
কার্যক্রম (Activity)
০১
গেজেট প্রকাশ
ইসি কর্তৃক বিজয়ীদের নাম সরকারিভাবে ঘোষণা।
০২
এমপিদের শপথ
গেজেট প্রকাশের ৩ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ।
০৩
নেতা নির্বাচন
সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সংসদীয় নেতা নির্বাচন।
০৪
প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ
রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ৫৬(৩) অনুচ্ছেদে নিয়োগ প্রদান।
০৫
মন্ত্রিসভার শপথ
বঙ্গভবনে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের চূড়ান্ত শপথ।
আরও পড়ুন:
১. ফলাফল একত্রীকরণ ও গেজেট প্রকাশ (Gazette Notification)
ভোটগ্রহণ শেষে রিটার্নিং অফিসারদের পাঠানো ফলাফল সমন্বয় করে নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে। সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের মাধ্যমেই একজন বিজয়ী প্রার্থী আইনিভাবে সংসদ সদস্য (Member of Parliament) হিসেবে স্বীকৃতি পান।
২. সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ (Oath of MP)
গেজেট প্রকাশের পরবর্তী ৩ দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নিতে হয়। সাধারণত স্পিকার (Speaker) এই শপথ পাঠ করান। তবে বর্তমানে বিশেষ পরিস্থিতিতে সংবিধানের ১৪৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি বা প্রধান বিচারপতি (Chief Justice) এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এছাড়া সিইসি-র (CEC) মাধ্যমেও শপথ গ্রহণের সাংবিধানিক এখতিয়ার রয়েছে।
৩. সংসদ নেতা নির্বাচন (Election of Majority Party Leader)
শপথ গ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল (Majority Party) তাদের সংসদীয় দলের বৈঠক ডাকে। সেখানে সংসদ সদস্যরা তাদের নেতা নির্বাচন করেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় দলটির সংসদীয় নেতা নির্বাচন এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
৪. প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ (Appointment of Prime Minister)
সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সেই সদস্যকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যার প্রতি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা রয়েছে। এরপর রাষ্ট্রপতি তাকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ (Invitation to form government) জানান।
আরও পড়ুন:
৫. মন্ত্রিসভা গঠন ও শপথ অনুষ্ঠান (Cabinet Formation and Oath Ceremony)
প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের নিয়োগ দেন। বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে এবং পরে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (Cabinet Division) থেকে দফতর বণ্টন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।
৬. প্রথম সংসদ অধিবেশন ও স্পিকার নির্বাচন (First Session & Speaker Election)
সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি সংসদের প্রথম অধিবেশন (First Session of Parliament) আহ্বান করেন। এই অধিবেশনে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মাধ্যমেই একটি নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
আরও পড়ুন:
ভোটের রায় থেকে বঙ্গভবন: সরকার গঠন নিয়ে প্রশ্নোত্তর-FAQ
প্রশ্ন: নির্বাচনের কতদিন পর নতুন সরকার গঠিত হয়?
উত্তর: সাধারণত নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পর থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন (First Session of Parliament) ডাকা বাধ্যতামূলক।
প্রশ্ন: বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ কে পাঠ করান?
উত্তর: সাধারণত বিদায়ী সংসদের স্পিকার (Speaker) নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ (Oath of MP) পাঠ করান। স্পিকার না থাকলে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি বা প্রধান বিচারপতি এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রীকে কে নিয়োগ দেন?
উত্তর: বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি (President) সেই ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister) হিসেবে নিয়োগ দেন, যার প্রতি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা রয়েছে।
প্রশ্ন: গেজেট প্রকাশ (Gazette Notification) কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ফলাফল সরকারিভাবে গেজেট আকারে প্রকাশ করলে তবেই একজন বিজয়ী প্রার্থী আইনগতভাবে সংসদ সদস্যের মর্যাদা লাভ করেন।
প্রশ্ন: সরকার গঠনের জন্য একটি দলের কতটি আসন প্রয়োজন?
উত্তর: বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্তত ১৫১টি আসন (Majority seats) পেলে একটি দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং সরকার গঠনের সুযোগ পায়।
প্রশ্ন: কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে কী হয়?
উত্তর: একে ‘ঝুলন্ত পার্লামেন্ট’ (Hungry Parliament) বলা হয়। সেক্ষেত্রে কয়েকটি দল মিলে কোয়ালিশন বা জোট সরকার (Coalition Government) গঠন করতে পারে।
প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রী কি যেকোনো ব্যক্তিকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন?
উত্তর: প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে মন্ত্রীদের নামের তালিকা জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার (Cabinet) সদস্যদের অন্তত ৯০ শতাংশ সংসদ সদস্য হতে হয়, বাকি ১০ শতাংশ টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন।
প্রশ্ন: শপথ গ্রহণের পর এমপিদের প্রথম কাজ কী?
উত্তর: শপথ নেওয়ার পর সংসদ সদস্যরা তাদের দলের নেতা বা ‘সংসদ নেতা’ (Leader of the House) নির্বাচন করেন। সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধানই সংসদ নেতা হন।
প্রশ্ন: সংরক্ষিত নারী আসনের (Reserved Women Seats) সদস্যরা কবে নির্বাচিত হন?
উত্তর: সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের সংখ্যানুপাতে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন।
প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ বা মৃত্যু হলে সরকারের কী হয়?
উত্তর: প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ বা মৃত্যুর সাথে সাথে পুরো মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত হয়ে যায়। রাষ্ট্রপতি তখন নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেন।
প্রশ্ন: বঙ্গভবনের দরবার হলের গুরুত্ব কী?
উত্তর: বঙ্গভবনের দরবার হল (Durbar Hall of Bangabhaban) হলো সেই ঐতিহাসিক স্থান যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন এবং রাষ্ট্রাচারের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
প্রশ্ন: স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কখন নির্বাচিত হন?
উত্তর: নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার (Speaker & Deputy Speaker) নির্বাচিত হন।
প্রশ্ন: গেজেট প্রকাশের কতদিনের মধ্যে শপথ নিতে হয়?
উত্তর: আইন অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ৩ কার্যদিবসের মধ্যে শপথ গ্রহণ করার নিয়ম রয়েছে।
প্রশ্ন: রাষ্ট্রপতি কি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া কাজ করতে পারেন?
উত্তর: সংবিধান অনুযায়ী, কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য সকল দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিতে হয়।
প্রশ্ন: সরকার গঠনের পর প্রথম ভাষণ কে দেন?
উত্তর: সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সরকারের নীতি ও সাফল্য তুলে ধরে ভাষণ প্রদান করেন। এরপর সেই ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন – ২০২৬ লাইভ আপডেট দেখতে ,ক্লিক করুন।
আরও পড়ুন:





