নো শাহ, নো মোল্লা ইন ইরান- স্লোগানে মুখর জার্মানির মিউনিখ শহর। গোটা বিশ্বের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যখন জার্মানির মিউনিখে চলছে ৬২তম নিরাপত্তা সম্মেলন, তখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ইরানের সাম্প্রতিক সরকার বিরোধী আন্দোলন। গতকাল (শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি) সম্মেলনের সাইড লাইনে বৈঠক চলাকালে ভেন্যুর বাইরে উপস্থিত হন পৃথিবী বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাহলভি বিরোধী ইরানিরা। তারা জানতেন, এসময় ভেন্যুর ভেতরেই অবস্থান করছেন ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি।
প্রবাসী ইরানিরা জানান, এখানে আমরা সবাই ইরান ও ইরানিয়ান রেজিস্ট্যান্সের পক্ষে এসেছি। ইরানের মানুষ আর কোনো স্বৈরশাসককে চায় না। আর আমরা মোল্লা বা শাহ কাউকেই চাই না।
প্রবাসী ইরানি একজন বলেন, ‘১৯৭৯ সালে বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা একজন স্বৈরশাসককে তাড়িয়েছি। এক স্বৈরশাসকের বদলে আরেক স্বৈরশাসক চাই না।’
বিক্ষোভকারীদের দাবি, খামেনি কিংবা পাহলভি- আর কোনো স্বৈরশাসককেই দেখতে চায় না ইরান। তাই শাহ বা মোল্লা নয়-গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকার ছাড়া ইরানে চলমান সংকট কাটবে না বলে মনে করেন ভিনদেশে বসবাসরত এ ইরানীরা।
গতকাল(শুক্রবার,১৩ ফেব্রুয়ারি) এ বিক্ষোভে প্রায় ৩ হাজার ইরানী অংশ নিলেও আজ (শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি) ১ লাখ মানুষকে নিয়ে মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিলেন আয়োজকরা।
আরও পড়ুন:
এদিকে, ভেন্যুর বাইরে যখন এমন বিক্ষোভ চলছে তখন সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি জানিয়েছেন, ক্ষমতার প্রতি কোনো লোভ নেই তার। ইরানে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে চান তিনি। সম্মেলনের সাইডলাইনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও দেখা করেছেন নির্বাসিত এই যুবরাজ।
ইরান নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি বলেন, ‘আপনি সমাজতান্ত্রিক হন কিংবা রক্ষণশীল, তাতে কিছু যায় আসে না। আপনি স্বাধীনতাকামী, রাজতন্ত্রবাদী অনেক কিছুই হতে পারেন। আমরা সকলেই গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করি। এভাবেই আমরা বৈষম্যের অবসান ঘটাবো।’
এদিকে, নিরাপত্তা সম্মেলনের এবারের আসরে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর একটি ছিল ইউরোপের নিরাপত্তা। উদ্বোধনী ভাষণে জার্মান চ্যান্সেলর মন্তব্য করেছেন, ইউরোপ নয়, গোটা বিশ্বের নিয়মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিলুপ্তি ঘটেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ইউরোপের এখন ভূরাজনীতির নেতৃত্বে আসার সময় বলে দাবি ফরাসি প্রেসিডেন্টের। এসময় সাইড লাইনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছে ম্যাক্রোঁ।
আরও পড়ুন:
সম্মেলনে যোগ দিয়ে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলছেন, এবারের আসরে ইউক্রেন বিষয়ক আলোচনায় ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। এছাড়া, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে আরও সামরিক সহায়তা চেয়েছেন জেলেনস্কি।
তবে এবারের সম্মেলনে ভিন্ন ভূমিকায় দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রকে। জাতিসংঘের যুক্তরাষ্ট্রের দূত মাইক ওয়ালটজ বলছেন, জাতিসংঘকে ডায়েটে রাখা প্রয়োজন। বরাদ্দ কমানো নিয়ে এমন মন্তব্য করায় সম্মেলনের মধ্যেই মাইক ওয়ালটজের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন ইইউ'র ফরেন পলিসি কমিশনার।
আর এসময় চীন ও সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন সেশনে বৈঠক করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বেইজিং-ওয়াশিংটন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা এসেছে বৈঠক থেকে। আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্রতার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে, জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক ও ইউরোপের নিরাপত্তা একই সূত্রে গাঁথা।





