তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে মাত্র তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। অন্য দুটিতে বিমান আসে, কিন্তু সিলেটে আসে না। অথচ সিলেটিরা দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রেখে চলেছে। দেশের ক্ষুদ্র কোনো দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে ইনশাল্লাহ সিলেট বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সিলেট এয়ারপোর্টটা পূর্ণমানের আন্তর্জাতিক না হওয়ার কারণে শুধু অল্প বিমানের ওঠানামা হয়, তাও লন্ডন থেকে। আর মাঝেমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দুই-একটা দেশ থেকে বিমান সিলেট হয়ে ঢাকা যায়। কিন্তু আমাদের বিপুল সংখ্যক মানুষ ইউরোপ-আমেরিকায় আছে, পশ্চিমা বিশ্বে আছে।’
তিনি বলেন, ‘এ দেশকে যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। এটা মুখের কথা নয়, ঠোঁটের কথা নয়, এটা আমাদের বুকের কথা। দুই কারণে দেবো, দিতে হবে। আজকে আমি এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি, আপনারা এখানে হাজির হয়েছেন। চব্বিশ সালের ৫ আগস্টের আগে কি এরকম চিন্তা করতে পেরেছিলাম। যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে এ স্বাধীনতা আমাদের এনে দিয়েছে, এ জাতি চিরদিন তাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে। আমরা তাদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবো, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’
আরও পড়ুন:
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা পাহাড়ি, সমতল, নিম্নাঞ্চল এবং সকল জাতি বর্ণ ও শ্রেণির মানুষদের নিয়ে একটি শান্তি ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়তে চাই। যেখানে থাকবেনা কোনো ভেদাভেদ। একটি শ্রেণি সম্পদের পাহাড় গড়বে, আরেকটি শ্রেণি থাকবে ভুখা এটা আমরা হতে দেবনা। আগামী ১২ তারিখের ভোট হবে বাংলাদেশ পরিবর্তনের ভোট। এটা ২৪ এর যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষার ভোট। এই ভোটের সাথে গণভোট হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ আমরা পাবো।’
চা শ্রমিকদের নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারে জন্মগ্রহণ করেছি। চা শ্রমিকদের ভুলে গেলে আমি নিজেকেই ভুলে যাব। আমি তাদের জন্য দুটি বিষয় নিশ্চিত করব। একটি স্বাস্থ্য ও অন্যটি সুশিক্ষা। আমরা চাইনা শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে, রাণীর মেয়ে রাণী হবে। আমরা চাই যদি একজন শ্রমিক ভাই বা বোনের মেধাবী সন্তান হয় রাষ্ট্র তার মেধা বিকাশের দায়িত্ব নিবে এবং সে একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হবে।’
প্রবাসীদের নিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অনেক লোকজন দেশের বাইরে যান। সেখানে অনেক প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যু হলে তাদের নিয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। আমরা এটা চাইনা। আমরা চাই রাষ্ট্র তার নিজ দায়িত্বে এই লাশগুলো সম্মানের সাথে বাংলাদেশে নিয়ে আসবে। আবার কোন শ্রমিক প্রবাসে গিয়ে কাজ করতে মারা যায় তার পরিবারের দায়িত্ব নেয়া হবে। সে বেওয়ারিশ পড়ে থাকবে না। তার পরিবারের দায়িত্ব নিবে সরকার। দেশে চুরি এবং চাঁদাবাজি বন্ধ হলে এই দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করা যাবে।’
আরও পড়ুন:
হ্যাঁ ভোট নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘গণভোট বাংলাদেশকে বদলে দেওয়ার ভোট, নতুন বাংলাদেশের জন্মের ভোট, চব্বিশের যোদ্ধাদের, শহিদদের আকাঙ্ক্ষার ভোট। সেই ভোট হচ্ছে গণভোট। সেই ভোটে হ্যাঁ হবে। হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী।’
কুলাউড়া আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সায়েদ আলীকে নিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, ‘কুলাউড়া আসনে প্রার্থী দুইজন। একজন সায়েদ আলী। আর ছায়া প্রার্থী হিসেবে আছি আমি।’
কুলাউড়া নবীন চন্দ্র স্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় জামায়াতের মৌলভীবাজার জেলা সেক্রেটারি মোঃ ইয়ামির আলীর পরিচালনায় এবং মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ও মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সাহেদ আলীর সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদের সদস্য শরিফ মাহমুদ।





