আজ (বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আকচা ইউনিয়নের ফাঁড়াবাড়ি বাজার এলাকায় নির্বাচনি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের সব নাগরিক সুষ্ঠু ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়, জনগণও চায় এবং আমরা রাজনৈতিক দলগুলোও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। সুতরাং এবার সম্ভাবনা অনেক বেশি এবার একটা সুন্দর নির্বাচন হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা তো সবাই চাই আমার ভোটটা আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো। আমার মনটা যাকে চাইবে আমি তাকেই ভোট দেব। তাহলে এবারের ভোটের মধ্য দিয়ে আমারা যেন একটা সুন্দর সরকার গঠন করতে পারি। যারা আমার দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করবে, গণতন্ত্রকে রক্ষা করবে; এর পাশাপাশি আমার দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য, আয় বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পথ বের করবে এবং দেশে একটা সুশাসন ব্যবস্থা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই নির্বাচন আমরা অনেক গুরুত্ব দিয়ে দেখছি, গুরুত্ব দিচ্ছি এ কারণে যে ১৫ বছর পরে আমরা একটা ভালো নির্বাচন পাচ্ছি। এরআগে তিনটা নির্বাচন হয়েছে কোনটাতে আমরা ভোট করিনাই, একটা ২০১৮ সালে ভোট করছিলাম ওটা আগের রাতে ভোট নিয়ে গেছে। এরপর আমরা যখন সবাই জেলে তখন ২০২৪ এর নির্বাচন সেটাও হয়নাই। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মধ্য দিয়ে পরিবর্তন হয়ে একটা নিরপেক্ষ সরকার এসেছে।’
আরও পড়ুন:
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, এখানে বিভক্ত থাকলে চলবে না। আমরা হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই এক হয়ে কাজ করবো। তাহলে অবশ্যই আমরা উন্নয়নের কাজগুলো করতে পারবো।’
হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমার হিন্দু ভাই-বোনদের মধ্যে একটা ভয় কাজ করে, কীসের ভয়? আমরা যদি ভোট দিতে গিয়ে কেউ হামলা করে—এরকম ভয়? কোনো ভয় করবেন না। আপনি এ দেশের নাগরিক, আমি যেমন নাগরিক, ঠিক আপনিও তেমন নাগরিক। আপনি বাংলাদেশি, আমিও বাংলাদেশি। আমি যেমন ভোট দিতে যাবো, ঠিক আপনিও ভোট দিতে যাবেন।’
তিনি বলেন, ‘কে আপনাদের ওপর হামলা করতেছে, কে আপনাদের আটকাচ্ছে ওটা আমরা দেখবো। আমাদের শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতে আপনাদের কোনো ক্ষতি হতে দেবো না।’
নিজ এলাকার জামায়াতের প্রার্থীর উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনি না জেনে আমার সম্পর্কে কথা বলাটা ঠিক না। আপনি একজন সম্মানীয় প্রার্থী, কথাটা সঠিক বলবেন, তাহলে ভালো হবে। আর প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে আক্রমণ করার সময় প্রতিপক্ষ প্রার্থীর মাত্রাটা বুঝতে হবে।’
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এটা আমার শেষ নির্বাচন, এ নির্বাচনের পরে আমার আর বয়সও থাকবে না, তখন আমি কাজও ঐরকম করতে পারবো না। তো আমাকে আপনারা সবাই মিলে ধানের শীষে ভোট দিয়ে কাজ করার সুযোগ দিবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’





