যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন্ম ও বেড়ে ওঠা জেফ্রি এপস্টেইনের। ১৯৭০-এর দশকে একটি স্কুলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান পড়াতেন। পরে ১৯৮২ সাল নাগাদ প্রতিষ্ঠা করেন নিজস্ব প্রতিষ্ঠান। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি এপস্টেইনকে, রাতারাতি হয়ে যান কোটিপতি।
অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের নিয়ে যৌনবৃত্তির এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। ২০০৫ সালে ১৪ বছর বয়সী এক মেয়েকে নিজের ফ্লোরিডার পাম বিচের প্রাসাদে যৌনকর্মে যুক্ত হতে প্রস্তাব দেয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন এপস্টেইন।
যতই তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হোক না কেন ক্ষমতার জোরে বরাবরই পার পেয়ে যান। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। যৌন নিপীড়নের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এপস্টেইনকে ২০১৯ সালের ৬ জুলাই নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৯ সালেরই ১০ আগস্ট কারাগারে মারা যান এপস্টেইন। যদিও তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন বলে ধরে নেয়া হয়।
আরও পড়ুন:
এই যৌন অপরাধী ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী জেফ্রি এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নথিপত্র বা এপস্টেইন ফাইলস বর্তমানে মার্কিন রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। মূলত মার্কিন বিচার বিভাগ এবং এফবিআইয়ের সংগৃহীত আইনি নথিপত্র, ই-মেইল, ছবি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দির একটি বিশাল সংকলন এ এপস্টেইন ফাইল। আন্তর্জাতিক শিশু পাচার ও যৌন শোষণ চক্রের দালিলিক প্রমাণ এটি। তবে এই ফাইলটি আলোচিত হওয়ার মূল কারণ হলো এতে থাকা নামের তালিকা। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, রাজপরিবারের সদস্য এবং ধনকুবেরদের নাম এই অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স অ্যান্ড্রু, প্রযুক্তি খাতের বিল গেটস এবং ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিদের সঙ্গে ই-মেইল বা সাক্ষাতের প্রসঙ্গ জড়িয়ে আছে এতে। জড়িয়ে আছেন হলিউড ও বিনোদন জগতের নামীদামী সব তারকা। বাদ যায়নি পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীদের মত বড় বড় ব্যক্তিত্বের নামও।
বিশেষ করে প্রকাশিত নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম আসায় বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, ২০০৮ সালে এপস্টেইন প্রথমবার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই তিনি তার সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন এবং তার কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি জানতেন না।




