মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ধনকুবের ইলন মাস্ক, ভারতের নরেন্দ্র মোদি, ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রু- শিশু যৌন নিপীড়ক এপস্টেইনের গোপন নথির থলে থেকে একের পর এক বেড়িয়ে আসছে কালো বেড়াল। চাঞ্চল্যকর সব তথ্যে ছয়লাব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
২০১৮ সালের ২ অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসুলেটের ভেতরে নিহত হন মিডল ইস্ট মনিটরের সাংবাদিক ও ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট জামাল খাসোগি। সঙ্গে সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের উত্তাপ ছড়ায় আন্তর্জাতিক মহলে। বদলাতে শুরু করে নানা আঞ্চলিক সমীকরণ। এর কিছুদিন পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করে খাসোগিকে হত্যার অভিযানের অনুমোদন দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহম্মদ বিন সালমান।
আরও পড়ুন:
কিন্তু শুক্রবার যৌন নিপীড়ক এপস্টেইনের ফাঁস হওয়া নথিতে বের হওয়া কয়েকটি ইমেইল জন্ম দিয়েছে নতুন বিতর্কের। সেখানে দেখা যায়। আনাস আল রশিদ নামের এক ব্যক্তি এপস্টেইনকে লেখেন খুবই নির্মমভাবে হত্যা করা হয় খাসোগিকে। জবাবে এপস্টেইন লেখেন, এই হত্যাকাণ্ড অনেক বড় ঘটনা। আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ সৌদি যুবরাজ মোহম্মদ বিন সালমানকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ফাঁসিয়েছেন- এমনটা ঘটলেও অবাক হবেন না বলে উল্লেখ করেন এপস্টেইন। এখানে আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে এমবিজেড বলে সম্বোধন করেন তিনি।
এদিকে, এপস্টেইনের নথি বিশ্লেষণ করে আরেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। তাদের দাবি, লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্পদ হাতিয়ে নেয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন এপস্টেইন।
লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে উৎখাতে ন্যাটো সমর্থিত অভ্যুত্থানের কয়েক মাস পর ২০১১ সালের জুলাই মাসে এপস্টেইনকে পাঠানো একটি ইমেইল উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিকভাবে লিবিয়ার প্রায় ৮০ বিলিয়ন সম্পদ জব্দ করা হয়েছে, যার প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার চলে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। তবে এখনও জব্দ করা যায়নি এর ৩ থেকে ৪ গুন বেশি সম্পদ।
ইমেইল প্রেরক এপস্টেইনকে প্রস্তাব দেন এই সম্পদের ৫ থেকে ১০ শতাংশ উদ্ধার করা গেলে সেখান থেকে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায় করা সম্ভব। আর পুরো বিষয়টিতে সহায়তা করতে রাজি আছে যুক্তরাজ্যের এমআইসিক্স ও ইসরাইলি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।





