Recent event

শবে বরাতের মহিমান্বিত রাত: যাদের দিকে ফিরবে না আল্লাহর রহমতের দৃষ্টি

শবেবরাত কি ভাগ্য রজনী
শবেবরাত কি ভাগ্য রজনী | ছবি: এখন টিভি
0

মুসলিম উম্মাহর কাছে শবে বরাত (Shab-e-Barat) হলো গুনাহ মাফ ও ভাগ্যলিপির মহিমান্বিত রাত। হাদিস অনুযায়ী, এই রাতে আল্লাহ তাআলা বকরির গায়ের পশমের চেয়েও বেশি মানুষকে ক্ষমা করে দেন। তবে এই অবারিত ক্ষমার রাতেও কিছু বিশেষ শ্রেণির মানুষ অভিশপ্ত থেকে যান, যাদের ক্ষমা করা হয় না।

একনজরে শবে বরাত ২০২৬ এর সময়সূচী
বিষয় তারিখ ও তথ্য
শাবান মাস শুরু২১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বুধবার)
শবে বরাত (পালিত হবে)৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত (মঙ্গলবার)
সরকারি ছুটি৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বুধবার)
ইবাদতের ধরণনফল নামাজ, জিকির ও কুরআন তিলাওয়াত

আরও পড়ুন:

কারা পাবেন না আল্লাহর ক্ষমা? (Who will not be forgiven)

রাসুলুল্লাহ (সা.) এর হাদিস অনুযায়ী, শবে বরাতের রাতে প্রধানত দুই শ্রেণির মানুষ ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থাকেন:

১. মুশরিক (Mushrik/Idolator): যারা মহান আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে, তাদের জন্য এই রাতের রহমতের দরজা বন্ধ থাকে।

২. বিদ্বেষ পোষণকারী (Malice/Hateful Person): যাদের অন্তরে অন্যের প্রতি হিংসা, ঘৃণা বা শত্রুতা লালিত হয়, তাদেরও আল্লাহ ক্ষমা করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেদের বিবাদ মিটিয়ে নেয়।

বিদ্বেষ কেন ক্ষমার অন্তরায়? (Why Malice prevents forgiveness)

বিদ্বেষ বা হিংসা মানুষের ইবাদতের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। সহিহ মুসলিমের (Sahih Muslim) হাদিস অনুযায়ী, পারস্পরিক শত্রুতা থাকলে আল্লাহর রহমত থমকে যায়। আল্লাহ চান বান্দা যেমন তার কাছে ক্ষমা চায়, তেমনি সে যেন অন্যের প্রতিও ক্ষমাশীল হয়। তাই শবেবরাতের প্রকৃত শিক্ষা হলো অহংকার বিসর্জন দিয়ে সম্পর্ক জোড়া লাগানো।

অন্যান্য বঞ্চিত শ্রেণি (Other Deprived Categories)

আলেমদের মতে, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান (Disobedient child), আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী এবং অন্যের অধিকার বা হক আত্মসাৎকারীরাও (Usurpers of rights) যদি তওবা না করে, তবে তারা এই রাতের পূর্ণ বরকত থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

আরও পড়ুন:

শবে বরাতে ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ ও প্রতিকার
বঞ্চিত শ্রেণি (Deprived Category) প্রতিকার বা করণীয় (Remedy/Action)
মুশরিক (শিরককারী) খাঁটি মনে তাওহীদের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা।
হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণকারী শত্রুতা ভুলে পারস্পরিক ক্ষমা ও মীমাংসা করা।
পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান পিতা-মাতার কাছে ক্ষমা চেয়ে তাদের সেবা করা।
সম্পর্ক ছিন্নকারী আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।
বান্দার হক আত্মসাৎকারী পাওনাদারের পাওনা মিটিয়ে দিয়ে মাফ চেয়ে নেওয়া।

এসআর