প্রথমবার দক্ষিণ এশিয়ার আয়োজিত ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা বাংলাদেশের ঘরে। যেখানে অন্যতম নাম মাসুরা পারভিন। পুরো আসরে গোল করে, করিয়ে রেখেছেন অনবদ্য ভূমিকা। ইতিহাসের অংশ হওয়া এমন যাত্রার শুরুটা হলো কীভাবে? মাসুরা জানালেন পেছনের সেই গল্প।
মাসুরা পারভিন বলেন, ‘হঠৎ করে একদিন সাবিনা আপু আমাকে ফোন দিলো। দিয়ে সে বললো, মাসুরা ফুটসাল খেলতে হবে। আমি তো এর আগে ফুটসাল খেলেছি। তাই আমি বলেছি আমি খেলবো। এর পেছনে আমাদের ম্যানেজার ইমরান ভাই আছে সব কৃতিত্ব তার। তিনিই উদ্যোগটা নিয়েছেন।’
শিরোপা জয়ের ভেতরেই এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি নিতে ২৯ জন ফুটবলার নিয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে ক্যাম্প। যেখানে এবারও ডাক পাননি সাবিনা-মাসুরা-সুমাইয়া-কৃষ্ণারা। মাসুরা অবশ্য মনে করছেন পারফরম্যান্স নয় ব্যক্তিগত জেদের কারণেই হেডকোচ পিটার বাটলার দলে নিচ্ছেন না তাদের।
আরও পড়ুন:
মাসুরা পারভিন বলেন, ‘আমরা কি আনফিট ছিলাম? না কি এখন আছি? এটি আসলে আমি জানি না, বলার কোনো ভাষা নেই। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইও না আমরা। কারণ আমি ভুটানেও আট মাস খেলেছি, সেখানেও কোচ আছে, প্লেয়ার আছে সবাই আছে আমরা খেলেছি। এখন যিনি ফুটসালের কোচ আছে উনিও আমাদের দেখেছেন। এখন কারো কাছে নতুন করে কিছু প্রমাণ করার নেই।’
জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়ার মতো যোগ্যতা রাখেন সাবিনা-মাসুরা। তবে তাদের না ডাকা একান্তই কোচের স্বাধীন সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও ফুটবল কোচ মাহমুদা খাতুন অদিতি।
সাবেক ফুটবলার ও ফুটবল কোচ মাহমুদা খাতুন অদিতি বলেন, ‘যে হেড কোচ নিয়োগ দেয় আসলে সব প্ল্যানিং তাদের ওপরে। রেজাল্ট খারাপ করলে কিন্তু দোষ তাদের ওপরেই দেই। এখন ওরা যে ক্যাপাব্যল রেজাল্ট দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে আমরা এখনো ফুরিয়ে যাইনি। ওরা ডে বাই ডে যতটুকু পারফরম্যান্স করার দরকার তা করেছে। দিন শেষে যে মূলনীতি নির্ধারক, টিম যে পরিচালনা করবে তার যে ফিলোসফি, গেম প্ল্যানিং তার সঙ্গে যদি কোনো প্লেয়ারের ম্যাচ না হয় এটি আপনি আমি বলে কিছু করতে পারব না।’
সাবিনা-মাসুরা-সুমাইয়া, কৃষ্ণারা বাংলাদেশের নারী ফুটবলে সম্পদ। অবহেলা কিংবা অনাদরে তারা যাতে ফুটবল থেকে হারিয়ে না যায় সে দিকে নজর রাখতে হবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে। এমনটাই মনে করেন দেশের ভক্ত-সমর্থক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্টরা।





