বিনিময় হারে এ পতন মার্কিন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি শক্তির ধারাকে ভেঙেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ২০২০ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত, করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ সুদহার বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়িয়েছিল।
তবে গত বছর ডলার ইনডেক্স যা মূলত মার্কিন ডলারের বিনিময় হারকে অন্যান্য প্রধান দেশের মুদ্রার সঙ্গে তুলনা করে তা প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে, এটি ২০১৭ সালের পর থেকে ডলারের সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্স। এর অনেকটাই ঘটেছিল মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বারবার বদলানো বা হঠাৎ করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া মুদ্রাবাজারের জন্য অপ্রত্যাশিত ও উদ্বেগজনক। এছাড়া সাম্প্রতিক মার্কিন-ইউরোপ সম্পর্কে টানাপোড়েন, বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত ঘটনাও ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এদিকে মার্কিন প্রশাসন যদি জাপানের ইয়েনকে সাহায্য করার উদ্দেশে ডলার ব্যবহার করে, তাহলে ডলারের মান আরও কমতে পারে বলে মত দিয়েছেন তারা।
ইএনজি’র গ্লোবাল ফাইন্যান্স মার্কেট রিসার্চ প্রধান ক্রিস টার্নার বলেন, ‘বেশিরভাগ মানুষ ধারণা করছেন চলতি বছরে ডলারের বিনিময় হার আরও কমতে পারে, তবে কবে নাগাদ সেটা হবে—এ সময়টা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো ও গোল্ডম্যান স্যাকসের সাবেক বৈদেশিক মুদ্রা বিষয়ক কৌশলবিদ রবিন ব্রুকসের মতে, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে এলোমেলো ও অনিশ্চিত চরিত্রের প্রতিক্রিয়া মুদ্রাবাজারে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া শুল্কারোপ ও গ্রিনল্যান্ড—এ দুটো ইস্যুতেই ট্রাম্প প্রশাসনের আচরণে একইভাবে মুদ্রাবাজারে ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলেছে।
রবিন ব্রুকস আরও বলেন, ‘আপাতত ডলারের বিনিময় হারের এ পতন এতটাই সামান্য যে তার প্রভাব মার্কিন ভোক্তাদের জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়।’
ডলারের বিনিময় হার কমার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী এখন সোনায় টাকা বিনিয়োগ করতে শুরু করেছেন, যার ফলে স্বর্ণেরক বছরের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অন্যদিকে ইউরো, পাউন্ড ও একাধিক উদীয়মান বাজারের মুদ্রার বিনিময় হারও বেড়েছে। এছাড়া কিছু বিদেশি পেনশন ফান্ড ডলারের দুর্বলতার কারণে মার্কিন সরকারি বন্ড অর্থাৎ ট্রেজারির হোল্ডিংও বিনিয়োগ কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে মার্কিন অর্থনীতি ও ফেডারেলের সুদের ওপর। এদিকে ট্রাম্প সুদের হার কমানোর পক্ষে, এ সিদ্ধান্তের কারণেও ডলারের বিনিময় হারকে আরও কমাতে পারে। রবিন ব্রুকস সতর্ক করেছেন, যদি ডলারের দুর্বলতা মার্কিন সরকারের অনিশ্চিয়তা বা দুর্বল নীতির কারণে ঘটে, তাহলে এটি পুরো মার্কিন অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি হতে পারে।





