জানা গেছে, আজ (বুধবার, ২৮ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদি ইউনিয়নের বাবলাতলা গ্রামে এ সংঘর্ষ ঘটে। এতে এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন ইস্রাফিল মোল্যা এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন ওয়াদুদ মোল্যা, শাহাবুদ্দিন মোল্যা ও চান মিয়া।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইস্রাফিল মোল্যা এবং ওয়াদুদ মোল্যা গ্রুপের সবাই আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাশ্ববর্তী ঘারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গাধরদি গ্রামে ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের নির্বাচনি সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে তারা বিএনপিতে যোগ দেন।
আরও পড়ুন:
ওই সভায় শহিদুল ইসলাম বাবুলের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের নেতারা বক্তব্য রাখেন। এসময় ইস্রাফিল মোল্যা দীর্ঘ সময় ধরে বক্তব্য দিলে ওয়াদুদ মোল্যার সমর্থক শহিদুল ইসলাম শান্ত নামে এক যুবক এতে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
এরই জের ধরে বুধবার দুপুরে ইস্রাফিল মোল্যার ছোট ভাই জাকারিয়া মোল্যার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে জাকারিয়া মোল্যা (৩৭), জাহিদ মোল্যা (৩৮), লাভলী বেগম (৪৫)-সহ কয়েকজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাকারিয়া মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা আগেও বিএনপি করতাম। গতকাল ওরা বাবুল ভাইয়ের সঙ্গে যোগ দেয়। সভায় আমার ভাই বক্তব্য দিলে শান্ত নামে একজন কটাক্ষ করে। পরে আজ আমাকে একা পেয়ে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে। আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে অপর পক্ষ ওয়াদুদ মোল্যা গ্রুপের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম বলেন, ‘গতকালের (মঙ্গলবার) একটি সভায় বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে আজ এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।’





