‘আমার কাছে মনে হয়, এটি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো একটি ঘটনা। ভারতে কিন্তু এ ধরনের কয়েকশো ঘটনা ঘটেছে। সেখানে এরকম কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে আমার মনে হয় না। অনেকে প্রতিবাদ করেছে, কিন্তু এটা নিয়ে যে এতো সিরিয়াস একটি সিদ্ধান্ত নেবে তা আমরা বুঝতে পারিনি।’—বলেন সাবেক পরিচালক রফিকুল ইসলাম বাবু।
নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারত বিশ্বকাপ বর্জন, সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক হলেও এর নেপথ্যে বিসিবির কূটনৈতিক দুর্বলতা দেখছেন সাবেক এ পরিচালক। তার মতে, শুরুতে সঠিক পন্থায় দর কষাকষি করতে না পারায় সম্পর্কের মেরুকরণে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। বিসিবির সাবেক এ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনে করেন কেবল মাঠের খেলা নয়, এখানে টেবিলের লড়াইয়েও জিততে হয়।
রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকার এবং ক্রিকেট বোর্ড দ্রুত যে সিদ্ধান্তটি নিয়েছে, সেটা আরেকটু ভেবে-চিন্তে নিলে ভালো হতো।’
তিনি বলেন, ‘আইসিসির এখন যে স্বাধীন নালিশ বোর্ড আছে একটা, স্বতন্ত্রেআরেকটি টিম আছে, তাদের কাছে যদি এই নালিশটা করা হতো, সিদ্ধান্তটা তাদের মাধ্যমে আসলেও কিন্তু বাংলাদেশ সেফ সাইডে থাকতো। ওরা (ভারত) যেমন নোংরামি করেছে, অবশ্যই এটা কেউই সাপোর্ট করি না। তবে এই জায়গায় ক্রিকেটীয় ডিপ্লোমেসিতে দারুণভাবে ধরা খেয়েছি।’
আরও পড়ুন:
ক্রিকেট বোর্ড নিজেদের কাঠামোগত ব্যর্থতা আর পরিকল্পনার অভাব আড়াল করতেই সাকিব ইস্যুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি সমাধান নয়, বরং মূল সমস্যা থেকে নজর ঘোরানোর কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন রফিকুল ইসলাম বাবু। তবে দেশের ক্রিকেট রসাতলে গেলো বলে যে গুঞ্জন সেটাকে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হয়তো এই ঘটনাটাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য সাকিব ইস্যুকে সামনে আনা হয়েছে। এই সরকারের পক্ষ থেকে কিন্তু বারবার বলা হয়েছে যে, তার এখানে আসার কোনো সুযোগ নেই, তাকে আইনকে ফেস করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আইসিসি থেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে না। কারণ, অতীতে কিন্তু অনেক রেকর্ড আছে যে, বিভিন্ন বিশ্বকাপই বিভিন্ন দেশ খেলতে যায়নি।’
সাবেক এ বিসিবি পরিচালকের মতে বাংলাদেশের ক্রিকেট বর্তমানে সংকটের মধ্যে দিয়ে গেলেও এটিই শেষ কথা নয়। ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাদ দিয়ে এবং বোর্ড কর্মকর্তাদের স্বদিচ্ছা থাকলে সবাইকে সাথে নিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। তবে তার জন্য প্রয়োজন সঠিক রোডম্যাপ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে স্বচ্ছতা।
তিনি আরও বলেন, ‘যদি সঠিকভাবে, সুন্দরভাবে, দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে চান, তাহলে স্টেকহোল্ডার সবাইকে নিয়ে সুন্দরভাবে কীভাবে সামনে সুন্দর একটি নির্বাচন করা যায়, সেদিকে এগিয়ে যেতে হবে। এটা করলেই দেশের ক্রিকেটে আবার স্বস্তি ফিরে আসবে এবং দেশের মানুষ ভালো ক্রিকেট দেখতে পারবে।’
এখন দেখার বিষয়, সংকটকালীন অবস্থা কাটিয়ে উঠতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় বিসিবি।





