চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের টিকা সেন্টারে রেজিস্ট্রেশন শেষ করতেই লেগে যায় অন্তত ৩ ঘণ্টা। এরপর আবার লাইনে দাড়াতে হয় টিকার জন্য। সব মিলে অন্তত চার ঘণ্টা ধকল পোহাতে হয় এ সেবা নিতে। টিকা নিতে আসা অধিকাংশ রোগীই প্রাণির কামড় বা আঁচড়ের শিকার।
টিকা দিতে আসা রোগীদের একজন বলেন, ‘দীর্ঘসময় লাইনে দাড়িয়ে থাকতে হচ্ছে টিকা দেয়ার জন্য।’
দেশের অধিকাংশ জেলার সরকারি হাসপাতাল গুলোতে মিলছে না জলাতংকের টিকা, তাই বাধ্য হয়েই আসতে হচ্ছে ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে। রোগীরা জানান, বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরেও মিলছে না জলাতঙ্কের টিকা।
কোনো প্রাণির কামড়ে ক্ষত গভীর হলে বা রক্ত বের হলে দরকার ইমিউনগ্লোবিউলিন ভ্যাকসিন। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে বন্ধ এ ওষুধের সরকারি সাপ্লাই। রক্ত বের না হলে র্যাবিস ভ্যাকসিনই যথেষ্ট। তবে, ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে র্যাবিস ভ্যাকসিনের মজুত আছে মাত্র আর এক সপ্তাহের।
আরও পড়ুন:
এখন পর্যন্ত দুটি ওষুধ কোম্পানি দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এ ভ্যাকসিন উৎপাদন করছে। তবে কাঁচামাল আমদানিসহ নানা সংকটের দাবি তাদের। অন্যদিকে সরকারও কিনতে চাইছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় কোনো কারণে টিকা দেয়া না গেলে মারত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে দেশের অসংখ্য মানুষ।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের পরিচালক ডা. আরিফুল বাসার বলেন, ‘আমাদের এখানে ভ্যাকসিন সাপ্লাইটা আছে তবে ইমিউনগ্লোবিউলিন ভ্যাকসিন গত ৬ মাস ধরে সাপ্লাই পাচ্ছি না। এজন্য আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমাদের যে জনবল সংকট আছে এতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. সাইফুউল্লাহ মুনশি বলেন, ‘কেউ যদি র্যাবিসে আক্রান্ত হয় তার মৃত্যু কিন্তু অবধারিত। সে জন্য কোথাও যদি ভ্যাকসিনের স্বল্পতা দেখা দেয় দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এ অবস্থায় দ্রুত সংকট কাটিয়ে সরবরাহ স্বভাবিক করার আহ্বান ভুক্তভোগীসহ সংশ্লিষ্টদের।





