গ্রিনল্যান্ডে স্থায়ী প্রবেশাধিকার পেতে ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও  নেটো সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটে
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেটো সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটে | ছবি: সংগৃহীত
0

গ্রিনল্যান্ডে সম্পূর্ণ ও স্থায়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তি করেছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর সঙ্গে কাজ করবে বলেও জানান তিনি। ডেনমার্ক জোর দিয়ে বলছে, গ্রিনল্যান্ডের ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস করবে না। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের সুরক্ষায় তারা একটি বাস্তবধর্মী বিনিয়োগ প্যাকেজের পরিকল্পনা করছে।

গেল কয়েকদিন ধরেই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে শক্ত অবস্থানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যেকোনো মূল্যে গ্রিনল্যান্ড তার চাই। এমনকি গ্রিনল্যান্ড দখলে মিত্রদেশগুলোকেও দিয়েছেন হুমকি। তবে এবার মিত্রদের সঙ্গে বৈরিতা কমিয়ে একসাথে কাজ করার কথা জানালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গ্রিনল্যান্ডে সম্পূর্ণ ও স্থায়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তি করেছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডে আমরা সম্পূর্ণ ও স্থায়ী প্রবেশাধিকার পাবো। এর মধ্যে সব রকম সামরিক প্রবেশাধিকারও থাকবে। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়েও আমাদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। গোল্ডেন ডোম তৈরির পরিকল্পনাও হচ্ছে আমাদের। এটি খুবই চমৎকার একটি পরিকল্পনা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের এটি দরকার।’

যদিও চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ নিয়ে এখনো অস্পষ্টতায় ইউরোপীয় নেতারা। ট্রাম্পের অবস্থানকে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানালেও এখনো অনেক কিছুই অস্পষ্ট বলে মত তার।

আরও পড়ুন:

অন্যদিকে, ডেনমার্ক জোর দিয়ে বলছে, গ্রিনল্যান্ডের ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস করবে না। এছাড়া, রাশিয়া ও চীনের আধিপত্যের হুমকি ঠেকাতে ন্যাটো মিত্রদের প্রতিশ্রুতি জোরদার করার আহ্বানও জানানো হয়েছে। আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ন্যাটোর উপস্থিতি বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছে ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী। ন্যাটোরও মতো তাই।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ‘ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান একই। সার্বভৌমত্ব নিয়ে ন্যাটোর সাথে কোনও আলোচনা হয়নি। নিরাপত্তা নিয়ে আমেরিকানদের সাথে আলোচনা হচ্ছে। চীন বা রাশিয়ার বিনিয়োগ যাতে না হয় তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও আমাদের একই রকম মনোভাব রয়েছে। এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের সুরক্ষায় তারা একটি বাস্তবধর্মী বিনিয়োগ প্যাকেজের পরিকল্পনা করছে। শুধু তাই নয়, ট্রাম্প যদি আবারও এই ভূখণ্ড দখলের হুমকি দেন, তাহলে এর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত আছে বলে জানানা জোটের নেতারা। যদিও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে বলেও জানান ইউরোপীয় কমিশন প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, ‘সম্মিলিতভাবে আর্কটিক অঞ্চলে কম বিনিয়োগ করা হয়েছে। তাই এখনি সময়, আমাদের লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ বাড়ানো। মূল লক্ষ্য হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা। একই সাথে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার নিজের স্বার্থের ব্যাপারে সদা তৎপর এবং নিজেকে রক্ষা করে যাবে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পরিবর্তিত অবস্থানে এবং চুক্তি নিয়ে অস্পষ্টতা থাকলেও অনেক ইউরোপীয় নেতা স্বাগত জানিয়েছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপের প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন।

এএম