গেল বছরের জুনে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায় ইরান। দুই পক্ষের ১২ দিনের যুদ্ধে শেষ মুহূর্তে হাজির হয় যুক্তরাষ্ট্র। বাংকার ব্লাস্টার বোমা ফেলে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় তেহরানের ৩টি পারমাণবিক স্থাপনায়। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান কোনোভাবেই তাদের পরমাণু কর্মসূচি বর্ধিত করতে পারবে না। এরমধ্যে সম্প্রতি ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনে ঘি ঢালে যুক্তরাষ্ট্র। বিক্ষোভকারীদের পক্ষ নিয়ে দেশটিতে হামলা চালানোর হুমকিও দেন ট্রাম্প।
বাইরের দেশের ইন্ধনে যারা বিক্ষোভে জড়িয়েছে, তাদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ঘোষণা দেয় খামেনি প্রশাসন। এরপরই ট্রাম্প হুমকি দেন, কোনো বিক্ষোভকারীকে ফাঁসি দিলে ইরানকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। পরে এমন সিদ্ধান্ত থেকে ইরান সরে আসার পর পিছু হটেন ট্রাম্পও।
এমন অবস্থায় ট্রাম্প নতুন করে অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার আবারও ৮৩৭ বিক্ষোভকারীকে ফাঁসি দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলো ইরান সরকার। তার উদ্যোগেই ইরান এই পরিকল্পনা বাতিল করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে ইরানের পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশাল বহর ইরানের পাঠানো হয়েছে। তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা কম বলে জানান ট্রাম্প।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজের বহর ইরানের দিকে যাচ্ছে। সেটি বিশাল নৌবহর। ইরানের পরিস্থিতি আগে দেখবো কী হয়। হামলার পরিকল্পনা আপাতত নেই। তবে খুব কাছ থেকে তাদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। এছাড়া যুদ্ধরাষ্ট্রের হুমকির পরই ৮৩৭ বিক্ষোভকারীর ফাঁসির পরিকল্পনা বন্ধ করে ইরান।’
আরও পড়ুন:
জবাবে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছে, তাদের বাহিনী বন্দুকের ট্রিগারে আঙুল দিয়ে রেখেছে। যেকোনো সময় তারাও পাল্টা হামলা চালাতে প্রস্তুত। বাহিনী জ্যেষ্ঠ এক কমান্ডার ট্রাম্পকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। বলেন, ইরানের দিকে আসলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ।
ইরানের বিপ্লবী গার্ডের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার মোহসেন রেজাই বলেন, ‘ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড হিটলারের মতো। যুক্তরাষ্ট্র যদি আরানের দিকে আসে তাহলে ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী চুপ করে বসে থাকবে না। মার্কিন যত ইরানের দিকে আগাবে তাদের পরিস্থিতি তত খারাপ হবে। ইরানের বাহিনী প্রস্তুত আছে। এবার কোনো যুদ্ধবিরতি মানা হবে না। ইরানে হামলা চালানোর কোনো অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।’
এদিকে সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর তথ্য বলছে, গেল সপ্তাহে যুদ্ধবিমান বহনকারী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ ও বেশকিছু যুদ্ধজাহাজ দক্ষিণ চীন সাগর থেকে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে। উপসাগরে সামরিক শক্তি বাড়ানোর বিষয়টি নিজেও নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প।
ইরানে দেশব্যাপী রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভে হতাহতদের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা কিছুতেই কাটছে না। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে সঠিক তথ্য পাওয়া চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানায় বিভিন্ন সংস্থা। বিক্ষোভকারীদের একটি দল দাবি করেছে, বিক্ষোভে প্রাণহানি পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে। যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে মৃত্যুসংখ্যা তিন হাজার ১১৭ জন।





