অন্তর্বর্তী সরকারে হতাশ নেপালের জেন-জি; নির্বাচনে নতুন মুখের প্রত্যাশা

নেপালে জনসমাবেশ
নেপালে জনসমাবেশ | ছবি: এখন টিভি
1

নেপালের শাসনব্যবস্থায় নতুন মুখ দেখতে চায় অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডে হতাশ তরুণ প্রজন্ম। সুশীলা কার্কির ক্যাবিনেটের অনেক মন্ত্রীর পদত্যাগ আরও ইঙ্গিত করে জেন-জিদের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবারের নির্বাচনে টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। পর্যবেক্ষকদের জরিপ বলছে, অভ্যুত্থান পরবর্তী নেপালের সাধারণ নির্বাচনে প্রবীণ বনাম তরুণ দেখা যাবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।

জেন-জিদের আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি গেল ৩০ বছর ধরে নির্বাচনে জিতে আসছেন ঝাপা জেলার পাঁচ নম্বর সংসদীয় আসন থেকে। এবার সেখানে কেপি শর্মার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তরুণ নেতা বালেন্দ্র শাহ। এরইমধ্যে, কাঠমান্ডুর মেয়রের পদ থেকে সরে গিয়ে প্রার্থিতার তালিকায় নাম লিখিয়েছেন র‌্যাপার বালা।

আগামী মার্চে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নেপালে জমজমাট নির্বাচনি প্রচার। এরইমধ্যে দেশটির সবচেয়ে পুরনো ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেস পার্টির ভাঙনের খবর ছেপেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। কংগ্রেস পার্টির বিদ্রোহীদের একটি অংশ জেন জি-দের প্রতিনিধিত্বকারী ৪৯ বছর বয়সী গগন থাপাকে তাদের নতুন সভাপতি নির্বাচিত করেছেন।

গগন থাপার কমিটিকে বৈধতা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গেল রোববার এ রায় চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের বিদায়ী প্রধান শেরবাহাদুর দেউবা। আদালতের রায়কে পক্ষপাতদুষ্ট ও আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে দাবি করছেন তিনি।

আরও পড়ুন:

বার্তা সংস্থা এপি বলছে, রাষ্ট্রীয় স্বাধীন পার্টির পক্ষে নির্বাচনে অংশ নিতে বালেন্দ্র শাহর পদত্যাগ, কংগ্রেস পার্টির ভাঙন ও তরুণদের প্রতিনিধিত্বকারী গগন থাপার উত্থান সরাসরি ইঙ্গিত করে, আসন্ন নির্বাচনে জেন-জিদের প্রত্যাশার একটি বড় প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।

নির্বাচনে অংশ নিতে সুশীলা কার্কির অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি, পানিসম্পদ ও সেচ মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি পদত্যাগ করেন কুলমান ঘিসিং এবং যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী বাবলু গুপ্তা। কাঠমান্ডু পোস্টের বিশ্লেষণ বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডে হতাশ জেন-জি। যার আঁচ পেতে শুরু করেছে সুশীলা কার্কির ক্যাবিনেট। তাই নির্বাচনের আগে নতুন প্রজন্মের সামনে ভাবমূর্তি রক্ষার চিন্তা আছে সব প্রার্থীদের মধ্যেই।

এবারের নির্বাচনেও হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন নেপাল পার্টির চেয়ারম্যান কুলমান ঘিসিং, ধরন সাব মেট্রোপলিটন সিটির মেয়র হরকা সাম্পাঙ্গের মতো নেতা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এবারের নির্বাচনে প্রবীণ ও তরুণদের মাঝে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। সেখানে তরুণ প্রজন্মের আইডল খ্যাত র‌্যাপার বালেন্দ্র ছাড়াও অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা প্রার্থীরা বাজিমাত করতে পারেন এমন আভাস মিলছে পর্যবেক্ষকদের জরিপে।

এফএস