ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ: অভ্যন্তরীণ নীতি, অভিবাসন ও পররাষ্ট্র নীতির বিরুদ্ধে অসন্তোষ

নিউ ইয়র্কের ফিফথ এভিনিউ  চলামান বিক্ষোভ
নিউ ইয়র্কের ফিফথ এভিনিউ চলামান বিক্ষোভ | ছবি: সংগৃহীত
0

বিশ্বের নানা অঞ্চলে দখলদারিত্ব থেকে শুরু করে ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ, অভিবাসন ও পররাষ্ট্র নীতিমালার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র। ক্ষমতায় ফেরার এক বছরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে বুড়ো আঙুল দেখানো, সামাজিক বিভাজন তীব্র করাসহ নানা অভিযোগে প্রেসিডেন্টের অভিশংসনেরও দাবি তোলেন বিক্ষোভকারীরা।

হিমাঙ্কের নিচে সাত ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। এমন তীব্র শীত উপেক্ষা করেই রাজপথে লাখো মার্কিন জনতা। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম বর্ষপূর্তিতে বিভিন্ন সরকারি নীতিমালার বিরোধিতায় নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি, মিনিয়াপলিস, স্যান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটলসহ সারা দেশের শহরে শহরে হয় বিক্ষোভ। অংশ নেয় শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মজীবী।

অভিবাসন পুলিশের অভিযানের নামে অভিবাসী আর বিদেশি কর্মজীবীদের ওপর আঘাত হানছে মার্কিন সরকার। মানুষের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। মানুষের আশা, প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। এর বিরুদ্ধেই কথা বলতে এসেছি আমি। ফিলিস্তিনের জন্য, সুদানের জন্য, নিজেদেরই ভূমিতে অভিবাসন পুলিশের বিরুদ্ধে আমাদের এ লড়াই।

ক্ষমতায় ফেরার এক বছরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সামাজিক বিভাজন তীব্র করার মতো নীতিমালা গ্রহণ করেছেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের। মঙ্গলবার কর্মক্ষেত্র থেকে বেরিয়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দিয়ে তার সরকারের দখলদারিত্ব থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ, অভিবাসন ও পররাষ্ট্র নীতিমালার বিরুদ্ধে অসন্তোষ জানান বিপুলসংখ্যক মানুষ। ‘দখলদারদের সাথে মিত্রতা নয়’, ‘চুরিকৃত ভূমিতে কেউ অবৈধ নয়’ এমন নানা স্লোগানে মুখর ছিল বিক্ষোভের ময়দান।

আরও পড়ুন:

এই প্রশাসনের ভয়াবহতা এতটাই তীব্র যে ঘরের বাইরে বের হতে আমি বাধ্য হয়েছি। একজন নাগরিক হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। আমার বয়স ৮৩ বছর। এটা আমার প্রথম বিক্ষোভ নয়। কিন্তু পরিস্থিতি এখন আমার কল্পনার চেয়েও খারাপ।

অবৈধ কার্যকলাপের এ তালিকা শেষ হবার নয়। যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই মানুষকে আটক করা, সরকারের একেকটা বিভাগ বিলুপ্ত করে দেয়া, বিশ্বের অন্যান্য অংশ দখলের হুমকি দেয়ার কথা বলছি। আমি শিহরিত।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব কানেক্টিকাটের সমন্বিত প্রকল্প- ক্রাউড কাউন্টিং কনসোর্টিয়ামের তথ্য, সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ ছাড়িয়ে গেছে প্রেসিডেন্টের প্রথম মেয়াদকেও। ২০২৫ সালে ১০ হাজার ৭শ’র বেশি সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, যা ২০১৭ সালের তুলনায় ১৩৩ শতাংশ বেশি । এখানেই শেষ নয়, নিউইয়র্কে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বাসভবন ও কার্যালয় ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্টের অভিশংসনেরও দাবি তোলেন বিক্ষোভকারীরা।

আমি চাই তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হোক, পুরো মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত হোক। কিন্তু তা হবার নয়। ২৫তম সংশোধনী কার্যকরের আহ্বান জানাচ্ছি। আমার মনে হয় ২০ জানুয়ারি, ২০২৫-এ আবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে তিনি নিঃসন্দেহে আরও খামখেয়ালি, আরও উন্মাদ, আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছেন।

এই একটা বছর আমার কাছে এক বছরের মতো লাগছে না। মনে হচ্ছে যেন এক দশকের মতো সময় ধরে ক্ষমতায় আছেন তিনি।

অভিবাসনসহ নানা ইস্যুতে পুনঃনির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেয়া ৪২ শতাংশ অঞ্চলে অন্তত একবার বিক্ষোভ হয়েছে তারই বিরুদ্ধে। অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের ম্যান্ডেট দিয়েছে ভোটাররাই, দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের। অথচ সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিকের অবস্থান অভিবাসীদের ওপর শক্তি প্রয়োগের বিরুদ্ধে। অভিবাসী আটককেন্দ্রের বিরোধিতা জানানো বিভিন্ন বামপন্থি সংগঠন, শ্রমিক ইউনিয়ন ও মাঠ পর্যায়ের সংস্থার উদ্যোগে হয় এসব বিক্ষোভ।

এএম