ক্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: আলোচনার কেন্দ্রে জামায়াত ও বিএনপির পৃথক জোট

বিএনপি ও জামায়াতের লোগো | ছবি : সংগৃহীত
0

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মূল লড়াইয়ে থাকা বিএনপি ও জামায়াতের পৃথক নির্বাচনি জোটে নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন, গুঞ্জন। বিএনপি বলছে, জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে একযোগে কাজ করছে দলটি। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন সরে গেলেও তাতে নির্বাচনি মাঠে প্রভাব পড়বে না, বলছে জামায়াত। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রচারণা শুরুর পর বোঝা যাবে জোট দুটির শক্তিমত্তা।

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জোট গড়া কিংবা আসন সমঝোতা দেশের রাজনীতিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। অনেক সময় বড় দলগুলো ছোট দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে থাকে। আবার এসব ছোটদল থেকে আসন পেয়ে সংসদ গঠনে বাড়তি সুবিধাও নিয়ে থাকে দলগুলো।

ব্যতিক্রম হয়নি ত্রয়োদশ নির্বাচনেও। এবার নির্বাচনের মূল লড়াই থাকা জামায়াত বিএনপি জোট নিয়ে রাজনৈতিক মাঠে আলোচনা তুঙ্গে। শুরুর দিকে প্রথম ইসলামী সমমনাদল গুলো এ জোট হয়ে জনগণের কাছে তাদের অবস্থান জানান দিয়েছিলো। যদিও শেষ পর্যন্ত জামায়াতের এ জোট থেকে বের হয়ে যায় ইসলামী আন্দোলন।

জামায়াতের জোট থেকে ইসলামী আন্দোলনের বেরিয়ে যাওয়া ইসলামী একক ভোটবাক্স ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন অনেকেই। তবে জোটের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, একটি দলের থাকা না থাকায় ভোটের ফলে প্রভাব ফেলবে না।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আলোচনা করেছিলাম। আসন সমঝোতার বিষয়টাও আমরা কনফার্ম করেছিলাম। যেকোনো কারণে তারা আমাদের সঙ্গে আর আসেননি, থাকেননি। আমার মনে হয় না এটা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে। ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য যেটা আছে এটাতে কোনো প্রভাব পড়বে না।’

এদিকে, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শরিক ৭ দলের সঙ্গে আসন বণ্টন করেছে বিএনপি। নির্বাচনি টিকেট নিশ্চিত করতে কেউ আবার নিজেদের দল বিলুপ্ত করে ধানের শীষের প্রার্থীও হয়েছেন। তবে আসন সমঝোতা নিয়ে সংকট আছে বিএনপি জোটও।

আরও পড়ুন:

বিশেষ করে সংকট তৈরি করছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা, যারা কেন্দ্র থেকে দেয়া জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধেই দাঁড়িয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে একটি সংসদীয় আসনে একই দলের নেতাদের মুখোমুখি অবস্থান কী প্রভাব ফেলবে ভোটের মাঠে?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এরইমধ্যে অনেক প্রার্থী তারা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বাকিরা প্রত্যাহার করে নেবেন।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রতি জামায়াতের কার্যক্রম অনেকটাই মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে। তবে অভিজ্ঞতার মিশলে গড়া বিএনপি জোটও পাল্টে দিতে পারে ভোটের সমীকরণ।

ঢাবি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘তুলনামূলকভাবে বিএনপি এ জোটের মাধ্যমে লাভবান হয়েছে আমার মনে হয়। ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে তারা যতটুকু মডারেট করা সম্ভব সেটাও তারা করেছে। সম্ভবত এটাও একটা কারণ যে কারণে জামায়াতের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।’

জোটের শক্তি নিয়ে সমর্থকদের মাঝে মতবিরোধ থাকলেও বিশেষজ্ঞ বলছেন, দলগুলোর প্রচার, জনসভা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শক্তিমত্তা বোঝা যাবে।

ইএ