রেমিট্যান্সে অবদান রাখছেন মৃত প্রবাসীরাও; ১১ মাসে এসেছে ৯০ কোটি টাকা

প্রবাসী কল্যাণ ভবন
প্রবাসী কল্যাণ ভবন | ছবি: এখন টিভি
0

কেবল জীবিত নয়, মৃত প্রবাসীরাও দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ভূমিকা রাখছেন। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ১১ মাসে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ বাবদ রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৯০ কোটি টাকা। গেল অর্থবছরেও ৯৫ কোটি টাকা এসেছে এই খাতে। তবে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নির্বাচনে ভুল হলে ক্ষতিপূরণের টাকা আদায়ে বিপাকে পড়তে হয় স্বজনদের। প্রতারণার ফাঁদেও পড়ার আশঙ্কা থাকে পরিবারের।

পুরান ঢাকার মোহাম্মদ ফারুক ২০২৩ সালে যান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে। সেলাই কারখানায় কাজ করে প্রতিমাসে পরিবারে পাঠাতেন ১৫ হাজার টাকা। গত বছর জুলাইয়ে কর্মস্থলে আকস্মিক মৃত্যুতে একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে ফেলে পরিবার। পরে মাস্কাট দূতাবাসের সহায়তায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে আসে তার ক্ষতিপূরণের টাকা। বিদেশ যাবার আগে বীমা করা থাকায় সেখানও পান টাকা। স্বল্প আয়ের এই প্রবাসীর মৃত্যুর পর ক্ষতিপূরণ পেয়ে স্ত্রী সুফিয়া এখন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের চিকিৎসার ভরসা পেয়েছেন।

মোহাম্মদ ফারুকের স্ত্রী সুফিয়া জানান, বিদেশে মারা যাওয়ার কারণেই হয়তো ক্ষতিপূরণের টাকা পাচ্ছেন। দেশে মারা গেলে এ টাকা পাওয়া নিয়ে ঝামেলা হতে পারতো বলে মনে করেন তিনি।

গন্তব্য এবার ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জ উপজেলায়। সেখানে থাকেন আরেক সুফিয়া। তার সন্তান আক্তার হোসেন গত নভেম্বরে মারা গেছেন সৌদি আরবে। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রদান করে ভালো অংকের টাকা। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকেও আসে ক্ষতিপূরণের টাকা। আক্তারের স্ত্রীও বেঁচে নেই। এতিম দুই নাতনিকে নিয়ে সংসার এগিয়ে নিচ্ছেন বয়োবৃদ্ধ সুফিয়া। বাবার ক্ষতিপূরণের এই টাকা সংরক্ষিত আছে মেয়েদের ভবিষ্যৎ কল্যাণে।

আরও পড়ুন:

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ৭টি দেশ থেকে ৬৯০ জন এমন মৃত প্রবাসীর ক্ষতিপূরণ বাবদ দেশে আসে প্রায় ৯০ কোটি টাকার রেমিট্যান্স। এরমধ্যে একজন প্রবাসীর সর্বোচ্চ ২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ এসেছে।

বিভিন্ন দেশে ক্ষতিপূরণ আদায় ও প্রবাসীদের মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আইনি পরিসেবা চালু আছে। চুক্তিভিত্তিক আইনজীবী রয়েছেন ১১ টি মিশনে। মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশন রয়েছে আলোচনার তালিকায়। তবে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে মিশনগুলোতে এই পদে আরও লোকবল বাড়ানোর কথা বলছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা।

আইএলওয়ের ন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার রাহনুমা সালাম খান বলেন, ‘এখানে আলাদা করে আমার মনে হয় রিসোর্স লাগবে সরকারের রেভিনিউ লাগবে লিগ্যাল এক্সপার্ট রাখার জন্য। এটা আরও বেশি হয় যে খুবই লেবার অ্যাটাশিদের ক্ষেত্রে সংখ্যা বাড়ানো।’

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বলছে, ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে প্রতারণার ফাঁদ। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি যাকে দেয়া হয় তার নামেই আসে ক্ষতিপূরণের অর্থ। সেক্ষেত্রে বেসরকারি ল ফার্মকে দায়িত্ব দেয়ার আগে সচেতন হতে বলছেন এই কর্মকর্তা।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক ড. এ টি এম মাহবুব উল করিম বলেন, ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি যাকে দেয়া হয় সে যখন বিদেশে গিয়ে টাকাটা আদায় করে এমনও হয় সে পুরো টাকাটা মেরে দেয়। কারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি যাকে দেয়া হয় টাকাটা তাকে হ্যান্ডওভার করা হয়। ফলশ্রুতিতে অনেক পরিবার ক্ষতির সম্মুখীন হোন তারা ক্ষতির টাকাটা পান না। তারা প্রতারিত হোন।’

গত অর্থবছরেও মৃত প্রবাসীদের ক্ষতিপূরণের অর্থ বাবদ দেশে এসেছে প্রায় ৯৫ কোটি টাকার রেমিট্যান্স।

ইএ