ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানিয়েছেন, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটির যৌথ সহায়তায় দেশে ফেরত কর্মীদের বিমানবন্দরে পরিবহন সহায়তাসহ অন্যান্য জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
ফেরত আসা কর্মীদের মধ্যে গাইবান্ধা জেলার মশিয়ুর রহমান, মানিকগঞ্জ জেলার আসমত আলী, ময়মনসিংহ জেলার হাইয়ুল মিয়া, সিরাজগঞ্জ জেলার আজাদুল হক, ঢাকার প্রসেনজিৎ রাজবংশী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মো. আব্দুল্লাহসহ অন্যরা বিদেশে কাজের নামে তাদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ করেছেন। তাদের প্রতিজনের গড় খরচ সাত লাখ টাকা।
ফেরত আসা কর্মীদের অভিযোগ, কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান তাদের চাকরিচ্যুত করে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ইতোমধ্যে পর্যায়ক্রমে মোট ১২০ জন বাংলাদেশি শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে আজ প্রথম দফায় ৩৫ জন কর্মী দেশে ফিরেছেন।
কর্মীদের অভিযোগ, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্রের মাধ্যমে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে রিক্রুটিং এজেন্সি কাশিপুর ওভারসিজ (আর.এল–১৩১৭) তাদের রাশিয়ায় পাঠায়।
ছাড়পত্রে রাশিয়ান প্রতিষ্ঠান মার্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ট্রেড ডেভেলপমেন্টের নাম উল্লেখ থাকলেও রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় ভিন্ন প্রতিষ্ঠান এলএলসি আলাবুগা ডেভেলপমেন্ট কোম্পানিতে। চুক্তি অনুযায়ী কর্মীদের ফ্যাক্টরি শ্রমিক হিসেবে কাজ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের দিয়ে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনের কাজ করানো হয়।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, এর আগে দেশে থাকতে তাদেরকে প্রথমে জুবায়ের ওভারসিজ নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে হাতবদল করে রিক্রুটিং এজেন্সি টিপিএস-৩৬০ বাংলাদেশ লিমিটেড (আর.এল–৯৯৫)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে এ প্রতিষ্ঠানই সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং বিএমইটি থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করে। কিন্তু কৌশল রিক্রুটিং এজেন্সি টিপিএস ৩৬০ বাংলাদেশ লিমিটেড জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্রে আরেকটি রিক্রুটিং এজেন্সি কাশিপুর ওভারসিজ (আর.এল১৩১৭) ব্যবহার করেন।
ভুক্তভোগী কর্মীরা এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।





