নেতিবাচক প্রচারণায় থমকে আছে বাংলাদেশের পর্যটন: সিএনএনের প্রতিবেদন

পর্যটন স্পট বান্দরবন
পর্যটন স্পট বান্দরবন | ছবি: সংগৃহীত
0

পর্যটনে অপার সম্ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়েনি পর্যটকদের সংখ্যা। সিএনএনের প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশের পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে ভুল বার্তা যাচ্ছে পশ্চিমাদের কাছে। ইউরোপের দেশগুলো বাংলাদেশকে দুর্যোগপ্রবণ, যানজটপূর্ণ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার দেশ মনে করে। এছাড়া, প্রতিবেশী ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের মতো বিকাশ পায়নি বাংলাদেশের পর্যটন খাত। তবুও বাংলাদেশে আসা বিদেশিরা শুনিয়েছেন দেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনার কথা।

রাত পেরিয়ে ভোরের আলো জানান দেয় বাংলাদেশের রূপের গল্পগাঁথা। সূর্যের লাল আভা, পাখির কলকাকলি, নদীর কলতান কিংবা সোনালি রোদের হাসিতে যখন ভরে ওঠে ফসলের মাঠ, মনে হবে যেন কোনো শিল্পীর নিপুণ তুলিতে আঁকা কল্পনার রাজ্য এটি।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের রাণী ও জীবনানন্দ দাশের রূপসী বাংলা খ্যাত প্রিয় জন্মভূমি গ্রীষ্ম থেকে বসন্তে ছয় ঋতুতে সাজে নতুন রূপে। বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকত কক্সবাজার, ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন, সিলেটে পাহাড়ের ভাজে ভাজে থাকা চায়ের বাগান কিংবা পিরোজপুরের ভাসমান বাজার; পর্যটককে আকৃষ্ট করতে কোনো কমতি নেই এশিয়ার দেশটির।

আরও পড়ুন:

কিন্তু এতকিছুর পরও বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়েনি পর্যটক। যা নিয়ে শুধু দেশের পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরাই নয়, উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও। সম্প্রতি বাংলাদেশের পর্যটন খাতের মন্থর অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিএনএন। দেশের পর্যটন ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সময়ে ভ্রমণ করা বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে খুঁজতে চেয়েছেন সমস্যা ও এর বিপরীতে থাকা সম্ভাবনার কথা।

অধিকাংশের মতামত, বিশ্ব মিডিয়ায় ভুল ফ্রেমিংয়ের শিকার বাংলাদেশ। বেশিরভাগ পশ্চিমা দেশই বাংলাদেশকে দুর্যোগপ্রবণ, যানজটে পরিপূর্ণ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার ভূখণ্ড হিসেবে মনে করে। এছাড়া, বাংলাদেশের পর্যটন অবকাঠামো শুধু শহরকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। তবে নগরের বাইরেও, প্রকৃতি তার দু হাত ভরে দিয়েছে গ্রামীণ অঞ্চলগুলোকে। অনেক পর্যটকই চায় গ্রামের শিশির ভেজা মাঠ কিংবা জমির আইল ধরে হেঁটে যেতে, নদীর পাড়ে কিংবা গাছের ছায়ায় বসে সময় কাটাতে। কিন্তু গ্রামীণ এলাকাগুলোতে নেই কোনো মানসম্মত হোটেল। নেই যোগাযোগ অবকাঠামোর সুব্যবস্থা।

এছাড়া ঘন ঘন রাজনৈতিক অস্থিরতাও বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন খাত পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশকে লেভেল ৩ তে স্থান দিয়েছে। নিজ দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য সরকার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রাম ভ্রমণের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক করেছে।

তবুও যারা বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছেন তাদের কয়েকজনের সাক্ষাতকার নিয়েছে সিএনএন। সবার বর্ণনাতেই উঠে এসেছে বাংলাদেশ সফরের সুখস্মৃতি। পর্যটন খাতের বিকাশে নানা পরামর্শও দিয়েছে তারা। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে বিদেশি পর্যটক এসেছেন ৬ লাখ ৬০ হাজার। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৫৫ হাজার।

ইএ