কেরানীগঞ্জে নিখোঁজের ২১ দিন পর মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার
মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার | ছবি: এখন টিভি
0

ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২১ দিন পর গৃহশিক্ষিকার বাসা থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জোবাইদা রহমান ফাতেমা ও তার মা রোকেয়া রহমানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত ফাতেমার বাবা শাহীন আহম্মেদ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক চারজনের মধ্যে গৃহশিক্ষিকা মীম আক্তার ও নুসরাত নূরজাহানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

২৫ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা ২২ মিনিট। সিসিটিভি ফুটেজে উঠে আসে, কেরানীগঞ্জের মুক্তিবাগ এলাকার গোকপাড়ে নিজ গৃহশিক্ষিকার বাসায় প্রবেশ করে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুবাইদা রহমান ফাতেমা। এরপর একই দিন সন্ধ্যায় ফাতেমার স্কুল ইউনিফর্ম পরে বের হচ্ছেন গৃহশিক্ষিকার বোন নুসরাত নূরজাহান।

সিসিটিভি ফুটেজে সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে দেখা যায় ফাতেমার স্কুল ইউনিফর্ম পরিবর্তন করে বোরকা পরে আবারও ওই বাসায় যাচ্ছেন নূরজাহান। ২৫ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৭টার দিকে গৃহশিক্ষিকার বাসায় ঢুকতে দেখা যায় ফাতেমার মা রোকেয়া রহমানকে।

এ ঘটনার দীর্ঘ ২১ দিন দিন পর গলিত মৃতদেহের গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে ট্রিপল নাইনে ফোন দেয় এলাকাবাসী। গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল থেকে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা রহমান ও তার মা রোকেয়া রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বাড়ির মালিক বলেন, ‘আমার স্ত্রী সিসিটিভি ফুটেজে অস্বাভাবিক আচরণ দেখেছে। দেখে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে ফোন দিয়েছে। আমার স্ত্রী বলে দুইতলায় কোনো ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। তারা গেট খুলছিলো না কান্না-কাটি করছে।’

এলাকাবাসীদের একজন জানায়, ঘটনা ঘটার পর তারা ছিল না। ঘুরতে গিয়েছিল দুই তিন দিন আগে এসেছে।

আরও পড়ুন:

এ ঘটনায় পুলিশ গৃহশিক্ষিকা মীম আক্তার, তার বোন নুসরাত নুরজাহান, স্বামী হুমায়ূন আহমেদসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ। তদন্তে গৃহশিক্ষিকা মীম ও নূরজাহানের হত্যার সঙ্গে প্রাথমিকভাবে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে জানান কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। বলেন-এনজিওর ঋণ নিয়ে বিবাদ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম বলেন, ‘নূরজাহান, মাহি তার তিন বোন এবং বড় বোনের স্বামী হুমায়নকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা থানায় নিয়ে আসি। ওই বাসায় যে সিসিটিভি ফুটেজ ছিলো তখন থেকেই পর্যবেক্ষণ শুরু করি। তাদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মীম এবং নূরজাহান তারা দুইজনই স্বীকার করে।’

এদিকে, এ ঘটনায় পুলিশের উদাসীনতা ও অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন নিহত স্কুল শিক্ষার্থীর বাবা। বলেন, বারবার পুলিশের দ্বারস্থ হলেও বিষয়টি আমলে নেয়নি পুলিশ।

নিহত শিক্ষার্থীর বাবা শাহীন আহম্মেদ বলেন, ‘সন্দেহ থেকেই যখন উনি কোনোভাবে মুখ খুলছেন না তারপরই আমি জিডি করলাম। জিডি করতে গেলে আমাকে চার্জ করেছিলো। আমাদের পারিবারিক কোনো সমস্যা আছে কি না, চলে গেছে, পালিয়ে গেছে, আত্মগোপনে আছে। পুলিশ বলে এমন হলে কীভাবে বের করবো আমরা পুলিশ তো ফেরেশতা নই।’

হত্যা মামলায় গৃহশিক্ষিকা মীম ও তার বোনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে নেয়া হয়েছে।

এফএস