অযত্ন-অবহেলা: পাবনা স্টেডিয়াম এখন মাদকসেবীদের ‘আখড়া’

আবুল মনসুর খান স্টেডিয়াম
আবুল মনসুর খান স্টেডিয়াম | ছবি: এখন টিভি
0

অযত্ন-অবহেলায় বেহাল পরিস্থিতি পাবনা ঈশ্বরদী স্টেডিয়ামের। প্যাভিলিয়ন গ্যালারি ও ওয়াশরুমের দরজা-জানালা কিছুই অবশিষ্ট নেই। মাদক গ্রহণকারীদের আখড়ায় পরিণত হওয়ায় স্টেডিয়ামটি হারিয়েছে খেলার পরিবেশ। তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানালেন, দ্রুতই স্টেডিয়ামে খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।

বেহাল মাঠেই বড় ভাইয়ের সঙ্গে নেট প্র্যাকটিস করছে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া শাহরিয়ার। স্বপ্ন জাতীয় দলের ক্রিকেটার হওয়ার। শাহরিয়ার জানান, আগে এ মাঠেই তারা প্র্যাকটিস করতো। অন্যান্য টিমের সঙ্গে ম্যাচ খেলা হতো। এখন মাঠটি খারাপ হওয়ার কারণে তারা বাহিরে থেকে কোনো টিম আনতে পারে না।

ঈশ্বরদীর আবুল মনসুর খান স্টেডিয়ামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ঠিকাদারদের কংক্রিট ও বিটুমিনসহ বিভিন্ন উপকরণ। মাঠে এখন খেলার বদলে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সড়ক নির্মাণসামগ্রী। আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ময়লার স্তূপ। প্রবেশ পথটিও খানাখন্দে ভরা।

জরাজীর্ণ অবস্থা পশ্চিম পাশের প্যাভিলিয়ন গ্যালারির। ওয়াশরুমের দেয়াল থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। ময়লা-আবর্জনা আর আগাছায় ছেয়ে গেছে চারপাশ। সীমানা প্রাচীর ভেঙে পড়ায় মাদক গ্রহণকারীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে জায়গাটি।

স্থানীয়দের একজন বলেন, যতটুকু আছে আমরা তা রক্ষা করতে পারছি না। সেখানে ফেলা হচ্ছে ঠিকাদারির উপকরণ।

আরও পড়ুন:

স্থানীয়দের অন্য আরেকজন বলেন, ‘আগে মাঠটি ভালো ছিলো। আমরা চাই মাঠটি যেন আবার আগের মতোই হয়ে আসে।’

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাইলিংয়ের মাটি ফেলায় স্টেডিয়ামের ঘাস মরে পাথরে পরিণত হয়েছে। দ্রুত স্টেডিয়ামটি সংস্কারের দাবি খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমীদের।

এদিকে, দ্রুত স্টেডিয়ামটি সংস্কার করে খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পাবনা ঈশ্বরদী নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি খুব দ্রুতই সেখানে ভিজিট করবো। সেখানে যদি কোনো করণীয় থাকে সেটি আমরা পাঠিয়ে দেবো।’

ঈশ্বরদীবাসীরও আশা স্টেডিয়ামটির মাঠে ফিরবেন খেলোয়াড়রা, ফিরবে খেলা।

এফএস