কোভিড পরবর্তী ২০২১ -২২ সালের পর ২০২৩ সালেও যুক্তরাষ্ট্রে অধিকার আদায়ের দাবিতে রাজপথে নামতে হয়েছিল নার্সদের। জনস্বাস্থ্যের জন্য নিবেদিত নার্সদের এবারের এই বিপুল সমাগম আগে কখনো দেখনি নিউ ইয়র্কবাসী।
স্থানীয় সময় (সোমবার, ১২ জানুয়ারি) সকালে নিউ ইয়র্ক সিটির প্রেসবিটারিয়ান হাসপাতালের কলম্বিয়া ক্যাম্পাসের বাইরে জড়ো হন অন্তত ১৫ হাজার নার্স। বেতন বৃদ্ধি, কাজের পরিবেশের উন্নতি ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবি জানান তারা।
বিক্ষোভেকারী এক নার্স বলেন, ‘ঐতিহাসিক এই বিক্ষোভে জড়ো হয়েছি কারণ আমরা মনে করি, রোগীরা আরও উন্নত সেবা এবং নার্সরা কর্মস্থলে নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রাখেন। কর্তৃপক্ষ আমাদের পর্যাপ্ত সুবিধা দেয় না। নার্সের সংখ্যাও পর্যাপ্ত নয়। তাই প্রতিবাদ জানাতে এসেছি।’
এদিন সকালে কর্মস্থল ছেড়ে বের হয়ে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ৩টি বেসরকারি হাসপাতাল প্রেসবিটারিয়ান, মাউন্ট সাইনাই ও মন্টেফিওরের নার্সরা। এক বিবৃতিতে নার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এই তিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বার্ষিক আয় কয়েকশ মিলিয়ন ডলার। অথচ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নার্সদের হেলথ কেয়ার বা স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা কমিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে। কর্মীদের ন্যায্য সুরক্ষা দেয়া ও কাজের পরিবেশ তৈরির বিষয়ে আলোচনার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান আসেনি।
আরও পড়ুন:
নার্সরা ধর্মঘটে গেলেও ওই তিন বেসরকারি হাসপাতালে চালু আছে স্বাস্থ্যসেবা। মার্কিন গণমাধ্যমের দাবি, গেল নভেম্বরে মাউন্ট সাইনাই এবং সবশেষ গেল সপ্তাহে ব্রুকলিনের প্রেসবিটারিয়ান হাসপাতালে সহিংস বন্দুক হামলার জেরে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। যদিও, সোমবারের ধর্মঘটের পর এখনও পরবর্তী কর্মসূচি জানায়নি ইউনিয়ন।
শুধু নিউ ইয়র্ক সিটি নয় পুরো অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে এই নার্স ধর্মঘটের তাৎপর্য অনেক। নিউ ইয়র্কে গভর্নর নির্বাচনের আগে নিজের ঘাঁটি পোক্ত করতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল। আর শ্রমিকদের পক্ষে কথা বলা নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির দিকে তাকিয়ে ছিলেন প্রগতিশীলরা। আশাহত করেননি মামদানিও। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিজেও সামিল হয়েছেন ধর্মঘটে।
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি, বলেন, ‘এখানে প্রায় ১৫ হাজার নার্স এসেছেন। তাদের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না। তারা কেউ মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার বেতন দাবি করছেন না। কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও কাজের নিশ্চয়তার দাবি নিয়ে এসেছেন তারা। তারা স্বাস্থ্যসেবা বা হেলথ কেয়ার সুবিধা চান। যা সম্পূর্ণ ন্যায্য দাবি।’
ধর্মঘটকারী নার্সদের সঙ্গে সরকারের সরাসরি কোনো বিরোধ নেই। তাদের মূল ক্ষোভ বেসরকারি ও অলাভজনক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্বাহী পদে থাকা ব্যক্তিদের ওপর। তাই, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে মামদানির অবস্থান কী হতে যাচ্ছে সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।





