হ্যাকারওয়ান ‘বাগ বাউন্টি ২০২৬’-এর পর্দা নামলো

হ্যাকারওয়ান ‘বাগ বাউন্টি’র সমাপনী অনুষ্ঠান
হ্যাকারওয়ান ‘বাগ বাউন্টি’র সমাপনী অনুষ্ঠান | ছবি: সংগৃহীত
0

বাংলাদেশ বাগ বাউন্টি কমিউনিটির সর্ববৃহৎ আয়োজন হ্যাকারওয়ান ‘বাগ বাউন্টি-২০২৬’ শেষ হয়েছে। গতকাল (শনিবার, ১০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এ আয়োজনটি ছিল ধারাবাহিক সিরিজের তৃতীয় আসর। আগের দুই আসরের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার আয়োজনের পরিসর ও অংশগ্রহণ ছিল আরও বৃহৎ।

এবারের আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাঁচ শতাধিক সাইবার সিকিউরিটি এন্থুজিয়াস্ট অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন বাগ বাউন্টি হান্টার, পেনিট্রেশন টেস্টার, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ডেভঅপস প্রফেশনাল, একাডেমিক রিসার্চার, সাইবার সিকিউরিটি ইন্ডাস্ট্রি লিডার, কমিউনিটি অর্গানাইজার এবং শিক্ষার্থী।

অনুষ্ঠানে ছয়জন অভিজ্ঞ সাইবার সিকিউরিটি প্রফেশনাল তাদের কর্মজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে সাইবার সিকিউরিটিকে পেশা হিসেবে নেয়া, আধুনিক টুলস ও মেথড এবং ইন্ডাস্ট্রির সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় উঠে আসে রিয়েল ওয়ার্ল্ড অ্যাটাক সিনারিও, অ্যাডভান্সড এক্সপ্লয়েটেশন টেকনিক, সফটওয়্যার সাপ্লাই চেইন সিকিউরিটি এবং অ্যাকশনেবল ডিফেন্সিভ স্ট্র্যাটেজি।

এবারের আয়োজনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল বিশেষভাবে তৈরি করা একটি রিয়েল ওয়ার্ল্ড ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনে ভালনারেবিলিটি টেস্টিং সেশন। এতে ৫১ জন ইথিকাল হ্যাকার অংশ নেন। প্রতিযোগিতা শেষে সেরা তিনজন অংশগ্রহণকারীকে পুরস্কৃত করা হয়।

বাংলাদেশে সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়ায়, আগ্রহী শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আয়োজকরা জানান, এ ইভেন্ট শুধু হাই-ইমপ্যাক্ট, হ্যান্ডস-অন ও কমিউনিটি-ড্রিভেন লার্নিংয়ের সুযোগ তৈরি করে না, বরং দেশের ক্রমবর্ধমান সাইবার সিকিউরিটি কমিউনিটিকে এক ছাদের নিচে নিয়ে আসার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করে। এর ফলে নলেজ শেয়ারিং, নেটওয়ার্কিং ও মেন্টরশিপ আরও সহজ হচ্ছে।

হ্যাকারওয়ান বাগ হান্ট ২০২৬-এর ইভেন্ট ডিরেক্টর সৈয়দ মুশফিক হাসান তাহসিন বলেন, ‘হ্যাকারওয়ান বাগ হান্ট সব সময়ই রিয়েল ইমপ্যাক্ট নিয়ে কাজ করে। এ বছর আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল কীভাবে রিয়েল সিস্টেম কম্প্রোমাইজ করা যায় এবং আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে কীভাবে সেগুলো ডিফেন্স করা যায়। পুরো ইভেন্টজুড়ে আমাদের ক্রমবর্ধমান স্কিল, আত্মবিশ্বাস এবং কমিউনিটি কোলাবরেশন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল।’

আয়োজকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের সাইবার সিকিউরিটি ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এনএইচ