কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেবল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’ নামে ভেনেজুয়েলায় ৩ জানুয়ারি চালানো বিতর্কিত হামলার জেরে এখন উত্তপ্ত মার্কিন রাজনীতি। উত্তেজনা বৃহস্পতিবার গড়িয়েছে সিনেট পর্যন্ত।
ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নতুন যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাব ইস্যুতে হয়েছে ভোটও। ১০০ সদস্যের সিনেটে প্রস্তাবটি পাসের পক্ষে ভোট দেন রিপাবলিকান পার্টির পাঁচ সদস্যসহ ৫২জন। আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৪৭ সিনেটর রিপাবলিকান সিনেটর। একজন ভোটদানে বিরত ছিলেন। এসময় বর্তমান শাসন ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করেছেন সিনেটের মাইনরিটি ও ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার।
তিনি বলেন, ‘আমেরিকা অতীতেও যখন এ ধরনের শাসন প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করেছে, তখন জনগণকে নিজেদের ধন-সম্পদ এবং রক্তের বিনিময়ে মূল্য দিতে হয়েছে।’
এ ভোটকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের কর্তৃত্বকে বাধাগ্রস্ত করার এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করা পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি এটিকে মূর্খতা বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। তবে ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতার উপর লাগাম টানতে সিনেটের নেয়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার আইন প্রণেতারা।
ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। যা ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নতুন করে যেকোনো ধরণের মার্কিন সশস্ত্র অভিযান বিরোধী সিদ্ধান্ত। ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতার উপর মার্কিন সিনেটের এই পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।’
মার্কিন হামলায় ৩২ কিউবানসহ ১০০ নিহতের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ও আইন প্রণেতারা। কূটনৈতিক উপায়ে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ নিতে চান বলেও জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে বলতে চাই, ভেনেজুয়েলার জনগণ পারমাণবিক শক্তিধরদের জঘন্য আগ্রাসনের যোগ্য ছিল না। যা ইতিহাসের জন্য কলঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রতিশোধ একমাত্র কূটনৈতিক উপায়ে নেয়া সম্ভব। এটি তখনই সম্ভব হবে যখন আমরা আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডে শান্তি কূটনীতির অর্থ কী তার শিক্ষা এবং উদাহরণের যথাযথ প্রয়োগ হবে।’
ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই… খুব শিগগিরই হোয়াইট হাউজের অতিথি হতে যাচ্ছেন ২০২৫ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ও মাদুরো বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মাচাদো নোবেল পুরষ্কার দিতে চাইলে তা গ্রহণ করবেন কি-না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, যটি এটি হয় তা হবে অনেক সম্মানের।
ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি আগামী সপ্তাহে আসবেন। আমি তাকে শুভেচ্ছা জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আমি শুনেছি যে তিনি আমাকে তা দিতে চান । এটি অনেক সম্মানের বিষয় হবে।’
এদিকে স্ত্রীসহ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে মুক্তি পেয়েছেন মাদুরো বিরোধী রাজনীতিবিদ এনরিক মার্কেজ। তিনি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এডমুন্ডো গঞ্জালেজকে বিজয়ী হিসেবে সমর্থন দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বন্দীদের কারাগারের বাইরে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অনেকে স্বজন কারাগারের বাইরে আপনজনদের মুক্তির জন্য অপেক্ষা করছেন।
তাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমি হুয়ান হোসে ফ্রেইটসের মা। আমার সন্তান মারিয়া কোরিনা মাচাদোর দলের সদস্য। আমি দেখতে এসেছি যে তারা আমার ছেলেকে মুক্তি দেবে কি-না।’
স্ত্রীসহ যুক্তরাষ্ট্রে বন্দি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মুক্তির দাবিতেও কারাকাসের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন হাজার হাজার মানুষ। তাদের প্রেসিডেন্টকে মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত রাস্তায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন সমর্থকরা।





