যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারে শনিবার গভীর রাতে যখন মার্কিন সেনারা ভেনেজুয়েলায় মুহুর্মুহু হামলা শুরু করেন…তখন ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে থাকা নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে বসে এভাবেই পুরো ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছিলেন ট্রাম্প। কালো পর্দায়-ঢাকা সেই কক্ষে সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও।
হামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গোটা অভিযানটি দেখতে টেলিভিশন শো-এর মতো মনে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। যেখানে তিনি দেখতে পেয়েছেন একটি নিরাপদ কক্ষে ঢুকে কিভাবে মাদুরোকে স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার করে তুলে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে ডেল্টা ফোর্সের সদস্যরা। এজন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত বাহিনীর প্রশংসাও করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
ভেনেজুয়েলার আগে পানামা ও ইরাকে হামলা চালিয়ে সরকার প্রধানদের তুলে নিয়ে যাওয়া ইতিহাস আছে যুক্তরাষ্ট্রের। হোয়াইট হাউজ তাদের এসব অভিযানকে যুক্তিযুক্ত ও বৈধ বললেও খোদ মার্কিন আইন বিশেষজ্ঞরাই মনে করেন…এধরনের অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বা অবৈধ।
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ মেরি এলেন ও'কনেল বলেন, অনেকদিন আগে থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সামরিক শক্তি ব্যবহারের কথা ভাবা একেবারেই ভুল ছিলো। ভেনেজুয়েলায় যা ঘটছে তার মধ্য দিয়ে মৌলিক কোনো পরিবর্তন হবে না। দেশটির গণতন্ত্রের জন্যও স্পষ্ট বিজয় নয়। এটা নিঃসন্দেহে আইনের শাসনের এক ভয়াবহ অবক্ষয়।
এদিকে হামলা চালিয়ে স্ত্রীসহ মাদুরোকে তুলে নিয়ে নিউইয়র্কের কারাগারে রাখার পুরো ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি ফ্রান্স, স্পেনসহ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্ররাও বলেছেন, সব দেশেরই আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা উচিত। এমনকি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে মাদুরোকে মুক্তি দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন।
ল্যাটিন আমেরিকার দেশটিকে নিজের কব্জায় আনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে হোয়াইট হাউজের সামনে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভও করেছেন অসংখ্য মানুষ। এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়কে নেমে হাজার হাজার মানুষ মার্কিন পতাকায় আগুন ধরিয়ে এবং ট্রাম্পবিরোধী প্লেকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।





