অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজল্ভ। কয়েক মাস ধরে সুচতুর পরিকল্পনা আর মহড়ার পরে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরতে মার্কিন সেনাবাহিনীর এই অভিযানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় ডিসেম্বরের শুরুতেই। রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্টের উচ্চ সুরক্ষিত বাসভবনের একটি পূর্ণাঙ্গ রেপ্লিকাও তৈরি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র; যেখানে প্রবেশের সূক্ষ্ণাতিসূক্ষ্ণ মহড়া চালায় ডেল্টা ফোর্সসহ মার্কিন অভিজাত সেনাসদস্যরা।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬৩ বছর বয়সী মাদুরোর শোয়া-বসা থেকে শুরু করে প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর মার্কিন গুপ্তচরদের তীক্ষ্ণ নজরদারি চলছিল কয়েক মাস ধরে। ভেনেজুয়েলান প্রেসিডেন্টের কোথায় ঘুমিয়েছেন, কী খেয়েছেন, কী পরেছেন, এমনকি তার পোষা প্রাণী- কিছুই বাদ পড়েনি মার্কিন নজরদারি থেকে।
আরও পড়ুন:
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন আর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ'র দীর্ঘ পরিকল্পনার ফসল এই অভিযান। গেলো বছরের আগস্টেই মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে সিআইএ'র ছোট্ট, কিন্তু শক্তিশালী একটি দল। কাছ থেকে মাদুরোকে পর্যবেক্ষণ ও সব খবরাখবর পেতে তার সরকারের ভেতর, তারই ঘনিষ্ঠ এক সহযোগীকে নিয়োগ দেয়া হয় গুপ্তচর হিসেবে।
দুই ঘণ্টা ২০ মিনিটে আকাশ, স্থল ও নৌপথে চালানো এ অভিযানের খবরে শুধু বহির্বিশ্ব নয়, বিস্মিত মার্কিনিরাও। গুপ্তচর, ড্রোন আর ব্লোটর্চ থেকে শুরু করে ১২টির বেশি এফ-থার্টি ফাইভসহ দেড়শোর বেশি সামরিক উড়োযান, ১১টি রণতরী, একটি বিমানবাহী রণতরী নিয়ে ১৫ হাজারের বেশি সেনাসদস্য যোগ দেয় মাদুরোকে ধরার এই অভিযানে; পরিসর ও নির্ভুলতার দিক থেকে কার্যত যা সারা বিশ্বের ইতিহাসে প্রায় নজিরবিহীন।
স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৪টা ২১ মিনিটে নিজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় সরাসরি সফল অভিযানের খবর দিয়ে বিশ্ববাসীকে চমকে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানা যায়, অভিযানে তিনি অনুমোদন দিয়েছিলেন আরও চারদিন আগে। কিন্তু সঠিক আবহাওয়া আর মেঘ কমার জন্য অপেক্ষা করতে তাকে পরামর্শ দেন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।





