৩০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস অভিযান: যেভাবে আটক হলেন মাদুরো (The US Military Raid in Venezuela)
শুক্রবার রাতে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযানটি ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু বিধ্বংসী। মাত্র ৩০ মিনিটেরও কম সময় স্থায়ী এই অভিযানে কারাকাসের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হানা দেয় মার্কিন অভিজাত বাহিনী। ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তাদের শোয়ার ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে তুলে নিয়ে আসা হয়। পুরো অভিযানটি ট্রাম্প ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো (Mar-a-Lago) রিসোর্টে বসে সরাসরি মনিটর করেন। তিনি এটিকে একটি ‘টেলিভিশন শো’-এর মতো রোমাঞ্চকর বলে বর্ণনা করেছেন। অভিযানে কোনো মার্কিন বিমান বা নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আটকের পর তাদের শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ইও জিমা (USS Iwo Jima)-তে তোলা হয়। পরে ট্রাম্প মাদুরোর একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে তাঁকে ভেসে থাকার সরঞ্জাম ও হেডফোন পরা অবস্থায় দেখা যায়। ট্রাম্প জানান, মাদুরো একটি স্টিলের তৈরি সেফ রুমে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু মার্কিন বাহিনী তাঁকে সেই সুযোগ দেয়নি।
আরও পড়ুন:
ট্রাম্পের ঘোষণা: ভেনেজুয়েলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র (Trump's Announcement on Governing Venezuela)
হামলার পর গতকাল শনিবার ভোরে নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ (Truth Social) এক পোস্টে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা পরিচালনার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, "ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ রদবদল না হওয়া পর্যন্ত আমরাই দেশটি চালাব।" একই সাথে তিনি জানান, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো (US Oil Companies) ভেনেজুয়েলার সব তেলের খনি নিয়ন্ত্রণে নেবে। তার মতে, মার্কিন কোম্পানিগুলো দেশটির বিধ্বস্ত অবকাঠামো মেরামত করবে এবং ভেনেজুয়েলার জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে। প্রয়োজন হলে দ্বিতীয় দফায় আরও বড় হামলা চালানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
কারাকাসের মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি (Current Situation in Caracas)
শনিবার ভোরে কারাকাসবাসী একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে জেগে ওঠেন। অফিসকর্মী কারমেন হিডালগো বলেন, "বিস্ফোরণে পুরো মাটি কেঁপে উঠল, এটা ছিল ভয়াবহ।" সাংবাদিক ভেনেসা সিলভা বিবিসিকে জানান, বজ্রপাতের চেয়েও শক্তিশালী বিস্ফোরণে তাঁর বাড়ি কাঁপছিল।
বিবিসি ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে জানিয়েছে, অন্তত তিনটি স্থানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও আগুন দেখা গেছে:
- লা কার্লোটা (La Carlota) বিমানঘাঁটির কাছে দুটি ধোঁয়ার কুণ্ডলী।
- লা গুয়াইরা (La Guaira) বন্দর এলাকা।
- হিগুয়েরোট (Higuerote) বিমানবন্দরের দুটি স্থান।
- হামলার সময় রাজধানীর আকাশ যুদ্ধবিমানের গর্জনে এবং বিস্ফোরণের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন:
নিউ ইয়র্কের আদালতে মাদুরোর বিচার (Maduro's trial in New York Court)
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি (Pam Bondi) জানিয়েছেন, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে ম্যানহাটানের ফেডারেল আদালতে মাদক ও অস্ত্র পাচারের (Drug and weapons charges) অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, এই দম্পতিকে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (Metropolitan Detention Center) কারাবাসে রাখা হবে। মামদানি এই হামলার কড়া সমালোচনা করে একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন (Global Reaction to US Intervention) এই হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে:
রাশিয়া ও চীন: রাশিয়া একে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। চীন অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘ: মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস (António Guterres) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলেছেন।
কিউবা ও ইরান: কিউবার প্রেসিডেন্ট একে ‘অপরাধমূলক আক্রমণ’ বলেছেন। ইরানও একে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলেছে।
যুক্তরাজ্য: প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, এই হামলায় ব্রিটেন জড়িত ছিল না।
আরও পড়ুন:
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: ১৯৯০ বনাম ২০২৬ (Comparison with 1990 Panama Invasion)
এই মার্কিন হস্তক্ষেপ অনেককেই ১৯৯০ সালের ৩ জানুয়ারি পানামা আক্রমণের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ঠিক ৩৬ বছর আগে একই দিনে পানামার নেতা ম্যানুয়েল আন্তোনিও নরিয়েগাকে একইভাবে পদচ্যুত ও আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। মাদুরোর আটকের ঘটনাও সেই একই দিনে ঘটল।





