বর্ষবরণের রাতে স্কি রিসোর্টে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুনে বহু হতাহতের ঘটনায় সুইজারল্যান্ডজুড়ে চলছে শোকের মাতম। দুর্ঘটনাস্থলে চলছে শোক কর্মসূচি, মোমবাতি ও ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ। অশ্রুসিক্ত নয়নে নিহতদের স্মরণ করছে সবাই। চলছে পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক।
ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনা এখনও দুঃস্বপ্নের মতো তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে প্রত্যক্ষদর্শীদের। আগুন থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যাওয়ার কথাও জানান অনেকে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘সত্যিই এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনো হইনি। আগুন লাগার সময় আমি সিঁড়ির কাছাকাছি ছিলাম। সিঁড়ি ছোট থাকায় ধাক্কাধাক্কিতে অনেকে পড়ে গেছেন। অনেকেই আগুন লেগে মারা গেছেন। সৌভাগ্যক্রমে আমি ও আমার বন্ধু বেঁচে গেছি।’
অন্য আরেকজন বলেন, ‘একজনের জন্মদিন উদযাপন চলছিলো। ঠিক তখনই আতশবাজি ফুটছিল। এরপরই আমরা আগুন দেখতে পাই। ভয়াবহ সেই মুহূর্ত বলে বোঝানোর মতো না।’
আরও পড়ুন:
দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একজন ব্যক্তি বলেন, ‘সত্যিই, এটি একটি সিনেমার মতো ঘটনা ছিলো। আমি আমার জীবনে এমন ভয়াবহ ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। আমি আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে হারিয়েছি।’
২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও স্কি রিসোর্টের বারে আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি। প্রথমিকভাবে এটিকে কোনো হামলা নয়; বরং দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখছে প্রশাসন। মোমবাতি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে সাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পুলিশ।
সুইস পুলিশ ফ্রেডরিক গিসলার বলেন, ‘তদন্তের কারণে ঘটনাস্থল ও এর সামনের প্রধান রাস্তা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। মৃতদের শনাক্ত করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের বয়স ১৬ থেকে ২৬ এর মধ্যে। বেশিরভাগেরই অবস্থা গুরুতর। মরদেহগুলো এমন ভাবে পুড়েছে যে পরিচয় শনাক্তের কাজ শেষ করতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগতে পারে।





