পরিষেবা
অর্থনীতি

তিতাস গ্যাসফিল্ডের ১৪ নম্বর কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু

দেশের সবচেয়ে পুরনো তিতাস গ্যাসফিল্ডের বন্ধ থাকা ১৪ নম্বর কূপের ওয়ার্কওভার শেষে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়েছে। এ কূপ থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে অন্তত ১৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। আগামী ১০ বছরে কূপটি থেকে উত্তোলন করা হবে ৪০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) পরিচালিত গ্যাস ফিল্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় তিতাস। যার ২৩টি কূপ থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে প্রায় ৩৯২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

তিতাসের ২৭টি কূপের মধ্যে নানা সংকটে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে ৪টি কূপ। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ্বরোডে অবস্থিত ১৪ নম্বর কূপ থেকে গ্যাসের সঙ্গে অতিমাত্রায় পানি ওঠায় ২০২১ সালের পহেলা নভেম্বর উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। চলতি বছর তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা গ্যাস ফিল্ডের ৭টি কূপের ওয়ার্কওভারে ৫২৩ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয় বিজিএফসিএল।

এরপর দৈনিক ১৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্যে গত ১৯ মার্চ থেকে ১৪ নম্বর কূপের ওয়ার্কওভার কাজ শুরু করে বাপেক্স। কাজ শেষে ২১ মে থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। অবশেষে আড়াইবছর পর শনিবার ফের যুক্ত হয় জাতীয় গ্রিডে।

আজ (শনিবার, ২৫ মে) দুপুরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব মো. নূরুল আলম।

জ্বালানি সচিব বলেন, 'গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে আরও ১০০টি কূপের সংস্কার ও খননের পরিকল্পনা রয়েছে। যা আগে ২০২৬ সাল থেকে শুরু করার চিন্তা ভাবনা ছিল। কিন্তু এখন ২৫ সাল থেকেই শুরু করার লক্ষ্যে কাজ করছি। যাতে আমাদের দেশিয় উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।'

প্রকল্প পরিচালক মো. ইসমাইল মোল্লা বলেন, 'প্রথমেই ৩ হাজার ৩৫৫ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়। তখন এর নিচের দিকে উৎপাদন ছিল না। সবশেষ ২৮৩৫ মিটার থেকে এর উৎপাদন ছিল। আমরা এখন ৩ হাজার ৭৯ থেকে ৮৭ মিটারের লেয়ার থেকে গ্যাস উৎপাদন করছি। ধরে নিয়েছি আগামী ১০ বছর ভালো প্রোডাকশন দিতে পারবো।'

আগামী ১০ বছরে তিতাসের ১৪ নম্বর কূপ থেকে উত্তোলন করা গ্যাসের বাজারমূল্য প্রায় ২৬০০ কোটি টাকা।

এভিএস

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর