দেশে এখন
ঈদযাত্রায় বগুড়া পার হলেই যানজটের শঙ্কা
সরু সড়কজুড়ে ছোট-বড় খানাখন্দ। হেলেদুলে চলা যানবাহনে দুর্ভোগ-ভোগান্তি সঙ্গী করে ঢাকা থেকে রংপুর, অস্বস্তির যাত্রা। তবে, সড়ক সংযোগ প্রকল্পের কল্যাণে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে উত্তরবঙ্গবাসীর চিরচেনা দুর্ভোগ।

চলছে এলেঙ্গা থেকে হাটি কুমরুল হয়ে রংপুর পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ। সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২ এর মার্চের অগ্রগতি প্রতিবেদন বলছে, বগুড়ার মির্জাপুর থেকে বনানী পর্যন্ত ২২.৫ কিলোমিটার মহাসড়কে কাজ হয়েছে ৮১ ভাগ।

বগুড়ার ফুলতলা ওভারপাসের পর শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের সামনে কিছু অংশের কাজ এখনও বাকি। তাই এই অংশে তেমন গতি নিয়ে চলতে পারে না যানবাহন।

এদিকে তীব্র যানজটের অন্যতম পয়েন্ট শহরের তিনমাথা রেলগেট এলাকা। সম্প্রতি এখানকার ওভারপাসটি খুলে দেয়ার পর ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে এই অংশে। ইতিমধ্যে ফোরলেন প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন বাস চালক, যাত্রীরা।

একজন বাস চালক বলেন, 'আগে রাস্তা চিকন ছিল। এক সাইড দিয়ে গেলে আরেক সাইড দিয়ে যাওয়া যেত না। এখন বড় রাস্তা হয়ে আমাদের ভালো হইছে।'

ঈদ ঘিরে বড় ভোগান্তির শঙ্কা আছে মাটিডালি অংশে মহাসড়কের অসমাপ্ত কাজ নিয়ে। এখান থেকে বাঘোপাড়া পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার নির্মাণাধীন মহাসড়ক ঈদযাত্রায় হয়ে উঠবে অস্বস্তির বড় কারণ।

যারা অনেকদিন পর এলাকায় ফিরবেন তাদের অনেকের কাছে অচেনা মনে হতে পারে, বগুড়া সদরের বাঘোপাড়ার পর থেকে শিবগঞ্জের মহাস্থান, চন্ডিহারা ও মোকামতলা পর্যন্ত মহাসড়কের এই দৃশ্য। একটা সময় রাজধানীর সাথে উত্তরের যোগাযোগের যে সড়ক ছিল খানাখন্দকে পরিপূর্ণ, দু'ধারে সবুজ মাড়িয়ে সেই সড়কে একের পর এক ওভারপাস, আন্ডারপাস বদলে দিয়েছে যানবাহনের গতি।

স্থানীয় একজন বলেন, 'অনেক দুর্ঘটনার ভয় থাকতো। এখন ওভারব্রিজ হওয়ার জন্য আর সে ভয় নেই। নীচ দিয়ে ছোট গাড়ি যাচ্ছে, আর উপর দিয়ে বড় গাড়ি যাচ্ছে।'

তবে বগুড়ার পর থেকে স্বস্তির এই যাত্রা থমকে যায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে। ফাঁসিতলা পার হয়ে উপজেলা শহরের প্রবেশমুখ থেকে দূর্ভোগের যেন অন্ত নেই। শহরজুড়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় এখনও শুরু হয়নি মহাসড়কের কাজ।

সময়মতো ভূমি অধিগ্রহণ করতে না পারায় এখনও কাজ শুরু করা যায়নি গোবিন্দগঞ্জ শহরের এই অংশে। এনিয়ে বারবার তাগিদ দিয়েও প্রশাসনকে ভূমি অধিগ্রহণে গতিশীল করা যায়নি। আসন্ন ঈদ যাত্রা নিয়ে নিজেও উদ্বিগ্ন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। আর সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব বললেন দ্রুত কাজ গাইবান্ধা-৪আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'গোবিন্দগঞ্জ শহরের মধ্যে যে জমি অধিগ্রহণ তা বন্ধ আছে। এর কারণে মানুষের ক্ষতি হয়েছে। যানজট নিরসন করতে পারছি না আমরা। জমির মালিকদের অনীহা আছে। মামলা করে তারাও একটা সংকট তৈরি করছে।'

সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, 'শুধু এই জায়গাটুকু কাজের মান সমস্যা। আর সব জায়গায় কাজের মান ভালো।'

এদিকে ড্রিমল্যান্ড এলাকা থেকে পলাশবাড়ি শহর হয়ে বাঁশকাটা পর্যন্ত মহাসড়কের কাজে হাত দেয়া সম্ভব হয়নি এখনও। সবেমাত্র শেষ হয়েছে স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম। ২০১৬ সালে শুরুর পর ভূমি অধিগ্রহণসহ বহুমুখী জটিলতার কারণে প্রথমে ২০২১ এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয় কাজের মেয়াদ।

পলাশবাড়ি থেকে বড়দরগা তারপর রংপুরের মডার্ন মোড় পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটার মহাসড়কে কাজের অগ্রগতি ৮১ ভাগ। আর পর্যন্ত ১৬ হাজার ৬৬২ কোটি টাকার এ প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ৭৩ ভাগ।

এমএসআরএস