মধ্যপ্রাচ্য
বিদেশে এখন
'নেতানিয়াহু ইসরাইলের জন্য বিপজ্জনক'
ইসরাইলে দিন দিন জোড়ালো হচ্ছে সরকারবিরোধী আন্দোলন। নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রাস্তায় নেমেছে হাজারো বিক্ষোভকারী। তাদের অভিযোগ, হামাসকে নির্মূলের নামে বন্দিদের জীবন হুমকির মুখে ফেলেছে। ইসরাইলের জন্য নেতানিয়াহু বিপজ্জনক।

প্রায় ৬ ধরে ইসরাইলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত আছে গাজায়। হামাস নির্মূলের নামে ইসরাইলি বাহিনী হত্যা করেছে নারী ও শিশুসহ কয়েক হাজার বেসামরিক মানুষ। সময় যাচ্ছে আর হামলা জোরদার হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা। দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ। তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতেও বাধা দিচ্ছে ইসরাইল। এত হত্যাযজ্ঞের পরও বন্দিদের মুক্তির বিষয়ে কূলকিনারা করতে পারেনি নেতানিয়াহু সরকার।

এবার দেশটির সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবিতে রাস্তায় নেমেছে হাজার হাজার মানুষ। রাজধানী তেল আবিবসহ জেরুজালেম ও বেগিন বুলেভার্ড শহরে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। দুর্গন্ধযুক্ত জল-কামান দিয়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়া হয়। গ্রেপ্তার করা হয় বেশ কয়েকজনকে।

স্থানীয় একজন বলেন, 'এই সরকার যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের সংকটের মধ্যে ফেলেছে। যুদ্ধ পরিচালনায় তার কোনো ধারণা নেই। ইসরাইলবাসীর নাম ব্যবহার করে গাজায় হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। আমরা তার পদত্যাগ চাই।'

এদিকে, ইসরাইলি পার্লামেন্টের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন জিম্মিদের স্বজনসহ সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সাবেক চিফ অব স্টাফ যোগ দেন। তার মতে ইসরাইলের জন্য বিপদ ডেকে এনেছে নেতানিয়াহু। বন্দিদের মুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে ঘোষণা দেন তারা।

এই আন্দোলনকে সুযোগ হিসেবে নিয়েছে বিরোধী দলগুলো। নতুন করে নির্বাচনের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে তারা। এসময় ক্ষমতাসীন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। বিক্ষোভ আন্দোলনে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে ইসরাইলের রাজনৈতিক বিভক্তি।

ইসরাইলিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসেন নেতানিয়াহু। গত অক্টোবরে হামাসের হামলা ইসরাইলবাসীর বিশ্বাসে প্রথম আঘাত করে। এবার বন্দিদের মুক্ত করতে না পারায় ইসরাইলের সামরিক শক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলছে দেশটির জনগণ। গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ছয় শতাধিক ইসরাইলি সেনা প্রাণ হারিয়েছে। যা বছরের মধ্যে সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ হতাহতের সংখ্যা।

এমএসআরএস