দেশে এখন
আলাদা নয়, রেস্টুরেন্টে হবে সমন্বিত মনিটরিং: ভোক্তা ডিজি
সিটি কর্পোরেশন, বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আলাদা তদারকি নয়; এখন থেকে রেস্টুরেন্টে হবে সমন্বিত নজরদারি। যাতে ভোগান্তি এড়িয়ে নির্দিষ্ট নিয়মে চলে রেস্তোরাঁ ব্যবসা। এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। আর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা।

গেল ২৯ ফেব্রুয়ারি বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ৪৬ জন। ভবনটির বেশিরভাগ ফ্লোরে রেস্তোরাঁ ও সিঁড়িতে অরক্ষিতভাবে সিলিন্ডার থাকায় এই আগুন বেশি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কঠোর নজরদারিতে পড়ে রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও রেস্তোরাঁগুলো। ভবন নির্মাণে গাফিলতি, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ও নানান অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে ফায়ার সার্ভিস, সিটি কর্পোরেশন, রাজউক, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ সরকারের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। অনিয়ম পেয়ে সিলগালা করা হয় প্রায় অর্ধশত রেস্টুরেন্ট ও আটক করা হয়ে অনেক রেস্তোরাঁকর্মীকে।

এরপর অভিযানের ভয়ে একে-একে বন্ধ হতে থাকে রেস্টুরেন্টগুলো। যেগুলো খোলা আছে সেগুলোতেও অগ্নিভয়ে প্রায় ক্রেতাশূন্য। আর এই ঢালাওভাবে অভিযানের বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানান রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি ও ব্যবসায়ীরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আবাসিক ভবনে রেস্তোরাঁ পরিচালনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সভা করেন অংশীজনরা। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে রোববার (৩১ মার্চ) দুপুরে মতবিনিময় সভা করে ভোক্তা অধিদপ্তর।

মহাপরিচালক জানান, ঢাকার সব রেস্টুরেন্টে এখন থেকে সমন্বিত অভিযান পরিচালিত হবে, সমন্বয়ক হবেন ভোক্তা অধিদপ্তরের ডিজি।

মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, 'বিছিন্নভাবে কেউ অভিযানে যাবে না এখন থেকে। সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে।'

সরকারের এমন সিদ্ধান্তে একমত অন্যান্য তদারকি সংস্থাও। আর সমন্বিত মনিটরিংকে সাধুবাদ জানিয়েছে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনও।

সকলে যদি সমন্বিত অভিযানে যাই তাহলে সমন্বয় পরিকল্পনা করে বাস্তবায়ন করতে হবে।

ঢাকায় ২৭ হাজার ও সারাদেশে আছে ৪ লাখের বেশি রেস্তোরাঁ। এদিকে কয়েকটি সংস্থার আলাদা তদারকির নামে চাঁদাবাজির অভিযোগও আনেন রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব।

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, 'মোবাইল কোর্ট যেভাবে পরিচালনা করা হয় এইটা চরম অপমানজনক। ভোক্তার ডিজি মহোদয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যেন সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।  এই মোমোবাইল কোর্টে অবশ্যই ফুড এক্সপার্ট থাকতে হবে।

বেইলি রোডের অগ্নিদুর্ঘটনা থেকে উপযুক্ত শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে রেস্তোরাঁ ব্যবসা আরও এগিয়ে যাবে- দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে এই খাত আশা অংশীজনদের।

ইএ