কৃষি , গ্রামীণ কৃষি
দেশে এখন
দেশি পেঁয়াজের দাম না পাওয়ার শঙ্কায় কৃষক
জমি থেকে দেশি পেঁয়াজ ওঠা শুরু হওয়ায় বাজারে বেড়েছে সরবরাহ। এতে পেঁয়াজের দামও ক্রেতাদের নাগালে এসেছে। তারপরও বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তাতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজের দাম না পাওয়ার শঙ্কা নাটোরের চাষিদের।

দেশে ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে গতবছর পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ৩২ লাখ টন। বিপুল উৎপাদনের পরও বছরজুড়ে পেঁয়াজের বাজার ছিলো অস্থিতিশীল। বাজার নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা অধিদপ্তর ও প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়।

কিন্তু এতকিছুর পরও মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের দৌরাত্মে নিয়ন্ত্রণে আসেনি বাজার। তাই এবার মৌসুমের শুরুতেই পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। যা দুই-একদিনের বিভিন্ন বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশের কথা রয়েছে।

তবে আমদানির খবরে পেঁয়াজ চাষিদের মাথায় হাত। ফের দাম পড়ে যাবার শঙ্কায় তারা।

চৈত্রের প্রথম সপ্তাহ থেকে নতুন পেঁয়াজ তোলতে শুরু করেন নাটোরের চাষিরা। আর ইতোমধ্যে এসব দেশি পেঁয়াজে ভরে উঠেছে বাজার। তারা বলছেন গতবছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ চাষের খরচ বেড়েছে। আর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় উৎপাদনও কমেছে। তাই মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ আমদানি হলে আর্থিক লোকসানে পড়তে হবে তাদের।

এ অবস্থায় চাষিদের উৎপাদন খরচের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজের দর ৩ হাজার টাকা মণ নির্ধারণের দাবি চাষিদের।

তারা বলেন, এখন আমরা পেঁয়াজ ঘরে তুলবো। যদি পেঁয়াজ আমদানি করা হয় তাহলে আমরা পথে বসে যাবো। বৃষ্টির জন্য এবার ফলন বেশি হয় নাই। বর্তমানে ১ বিঘা জমিতে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়। যদি ৩ হাজার টাকা মণ বিক্রি করতে পারি তাইলে লাভ হবে।

জেলার জনসংখ্যা অনুপাতে নাটোরে মোট পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে ৩০ হাজার মেট্রিক টন। অথচ সেখানে উৎপাদন হয় ৬০ হাজার মেট্রিক। চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত পেঁয়াজ চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। বর্তমান মূল্য অনুযায়ী এবার উৎপাদন হবে অন্তত ৩০০ কোটি টাকার পেঁয়াজ।

এভিএস