গ্রামীণ কৃষি
কৃষি
সিরাজগঞ্জে ক্ষীরার ব্যাপক আবাদ
গতবছর ভালো দাম পাওয়ায় এবারও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ব্যাপক আবাদ হয়েছে সালাদ জাতীয় শস্য ক্ষীরার। সব মিলিয়ে এবার অন্তত ৫০ কোটি টাকার ব্যবসার আশা।

বিস্তীর্ণ চলনবিলের মাঠ থেকে ক্ষীরা তোলায় ব্যস্ত কৃষক। গতবছরের ভালো দাম পাওয়ার পাশাপাশি অনুকূল আবহাওয়ায় এবারও লাভের আশায় বুক বেঁধেছেন তারা।

চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জের ৩৯২ হেক্টর জমিতে হয়েছে ক্ষীরার আবাদ। যার ৩২৫ হেক্টরই চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশে। প্রতি বিঘায় ফলন পাওয়া যাচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ মণ পর্যন্ত। রোজায় চাহিদা থাকায় প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায়।

কৃষকরা বলেন, প্রতি বিঘায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকায় বিক্রি করবো। যদি দাম এরকম থাকে তাহলে আমরা খুবই লাভবান হইতে পারবো। বিভিন্ন জায়গা থেকে বেপারিরা আসে ক্ষীরা কিনতে।

ক্ষীরা কিনতে তাড়াশের বারুহাসের হাটে দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন পাইকাররা। প্রতিদিন যেখানে বিক্রি হচ্ছে দেড় থেকে দুই কোটি টাকা।

পাইকাররা বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ক্ষীরা সিরাজগঞ্জের। এটা মিষ্টি ক্ষীরা। সাদা ক্ষীরাটা প্রতি বস্তা ১৭০০-১৮০০ টাকায় আর লাল টা ৬০০-৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন ২৫-৩০ ট্রাক ক্ষীরা বিক্রি হয়।

স্বল্প মেয়াদী ও অর্থকরী হওয়ায় দিন-দিন ক্ষীরা আবাদ বাড়ছে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, 'বীজতলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে চাষিদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এছাড়া কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক বিভিন্ন রোগবালাই সম্পর্কে তাদের পরামর্শ দিচ্ছে।'

জেলায় এবার ৯ হাজার ৮০০ টন ক্ষীরা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে কৃষি বিভাগ। যার আনুমানিক বাজার মূল্য অন্তত ৫০ কোটি টাকা।

এভিএস